যুবককে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল ফার্নিচার কর্মীর

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২২, ১৯:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

  সাভার প্রতিনিধি

সাভারের আশুলিয়ায় অপরিচিত যুবককে বাঁচাতে গিয়ে দুর্বৃত্তের হামলায় লিখন (১৮) নামে এক ফার্নিচার দোকানের কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।  নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান লিখন। এর আগে সোমবার রাতে আশুলিয়ার পলাশবাড়ির গোছরারটেক ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। 

নিহত লিখন সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার ভয়নগর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থেকে ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতেন।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ইনচার্জ ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, রাত ১০টার সময় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ দুপুরে  তিনি মারা যান।

পুলিশ জানায়, পলাশবাড়ীর গোছরারটেক ইস্টার্ন হাউজিং মাঠে মেহেদী নামে এক যুবককে কয়েকজন মারধর করছিলো। ওই মাঠে বসে মোবাইল চাপাচাপি করছিলেন নিহত লিখন।

মেহেদীকে মারধর করতে দেখে দৌড়ে এসে তাকে বাচাঁনোর চেষ্টা করেন লিখন। এ সময় দুর্বৃত্তরা লিখনকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারেন। মার খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন লিখন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। 

নিহতের স্বজন শহিদ আলী বলেন, লিখন আমার শ্যালকের ছেলে। সে পলাশবাড়ীর একটি ফার্নিচারের দোকানে কাজ শিখতো। সোমবার রাতে পলাশবাড়ি এলাকায় কে বা কারা তার ওপর হামলা চালায়।

এ সময় লিখন গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে আশুলিয়ার সমাজভিত্তিক মেডিকেল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিলে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেলে রেফার করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুরে তিনি মারা যান।

আমি খবর পেয়ে আজ গ্রাম থেকে এসেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না। তবে কে বা কারা তাকে মারলো এসব তথ্য এখনও পাইনি। আমার জানা মতে তার কোনো শত্রু ছিল না।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজ উদ্দিন বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের কোথাও কোনো মারধরের চিহ্ন নেই। তবে ইন্টারনাল ইনজুরি থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে