ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯ আপডেট : ৫ মিনিট আগে

লোডশেডিংয়ে নাকাল চট্টগ্রামবাসী, ব্যাহত শিল্প কারখানার উৎপাদন

  চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২২, ২২:০৭

লোডশেডিংয়ে নাকাল চট্টগ্রামবাসী, ব্যাহত শিল্প কারখানার উৎপাদন
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিতরণ কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। এই কারণে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু-বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ। বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিল্প কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর অনেক এলাকায় অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকলেও স্থায়িত্ব দুই মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট। চট্টগ্রাম জোনে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বর্তমানে ২০০ থেকে ৩৫০ মেগাওয়াট হলেও সেটি আবার অনেক সময়ই ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ চট্টগ্রাম সূত্রে জানা যায়, এই মুহূর্তে জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে সরবরাহ আছে ১ হাজার ৩৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু চাহিদা রয়েছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কাপ্তাই হাইড্রোলিক পাওয়ার প্ল্যান্ট-১ এ (৪৬ মেগাওয়াট) বর্তমানে পুরোটাই বন্ধ। কাপ্তাই হাইড্রোলিক পাওয়ার প্ল্যান্ট-২ এ (৪৬ মেগাওয়াট) সরবরাহ আছে। কাপ্তাইয়ের ৫০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে মিলছে ৪৬ মেগাওয়াট। কাপ্তাইয়ের অপর ৫০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৩৫ মেগাওয়াট।

অপরদিকে ২১০ মেগাওয়াটে রাউজান-১ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯০ মেগাওয়াট। ২১০ মেগাওয়াটের রাউজান-২ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোটাই বন্ধ এখন। জুডিয়াক ৫৪ মেগাওয়াট থেকে মিলছে ৩৫ মেগাওয়াট। ১১০ মেগাওয়াটের বারাকা কর্ণফুলী থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে পুরোটাই। ১৫০ মেগাওয়াটের শিকলবাহা পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট পুরোটাই বর্তমানে বন্ধ।

২৪ মেগাওয়াটের রিজেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ২১ মেগাওয়াট। ৫০ মেগাওয়াটের ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে মিলছে ৮ মেগাওয়াট। ১০০ মেগাওয়াটের জুলধা-১ পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ মেগাওয়াট। ১০০ মেগাওয়াটের জুলধা-২ পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে মিলছে ৫০ মেগাওয়াট। একইভাবে ১০০ মেগাওয়াটের জুলধা-৩ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৭৬ মেগাওয়াট। ২৬ দশমিক ৭ মেগাওয়াটে আরপিসিএল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে পাওয়া যাচ্ছে ২৫ মেগাওয়াট। ১০০ মেগাওয়াটের দোহাজারী বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৮৯ মেগাওয়াট।

১০০ মেগাওয়াটের হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন পুরোটাই বন্ধ। ৫০ মেগাওয়াটের বারাকা পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে মিলছে ৩৭ মেগাওয়াট। ১০০ মেগাওয়াটের এনার্জিপ্যাক পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৯০ মেগাওয়াট। ৩০০ মেগাওয়াটের আনোয়ারা পিকিং প্ল্যান্ট থেকে পাওয়া যাচ্ছে ২৬৫ মেগাওয়াট। অন্যদিকে ২২৫ মেগাওয়াটের শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বর্তমানে পুরোটাই বন্ধ।

এই তীব্র গরমের মধ্যে গত শনিবার থেকে নগরীর প্রতিটি সাবস্টেশন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। চলতি বছরে গত সাত মাসের মধ্যে সোমবার এবং গত রোববার চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি লোডশেডিংয়ে ভুগেছে নগরবাসী। বেশ কয়েক বছর পর সোমবার পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এখন চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে লোডশেডিং চলছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী এম রেজাউল করিম জানান, কয়েকদিন ধরে লোডশেডিং শুরু হয়েছে। এটা শুধু চট্টগ্রামের সমস্যা নয়। এটা জাতীয় পর্যায়েও একই অবস্থা। চট্টগ্রামের কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এখন চট্টগ্রামে ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ মেগাওয়াট লোডশেডিং চলছে। পিক আওয়ারে এখন চট্টগ্রামের বিদ্যুতের চাহিদা ১৩শ মেগাওয়াটের মতো।

তিনি সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বড় বড় শপিং মলগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যেভাবে সেন্ট্রাল এসি চালিয়ে রাখে এবং হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও মার্কেট গুলোতে যেভাবে দিনে-রাতে অপ্রয়োজনীয় বাতি জ্বালিয়ে রাখে এই মুহূর্তে সেগুলো বন্ধ করলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে। যার যার অবস্থা থেকে যদি আমরা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হই তাহলে আমাদের অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। মূলত চট্টগ্রামে গত শনিবার থেকে লোডশেডিং শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অনেক বেড়ে গেছে। সারা পৃথিবী ব্যাপী এর প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি খাতে সরকার ভর্তুকি কমাতে এই মুহূর্তে সারাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এখানে আমাদের (চট্টগ্রামের) কিছু করার নেই।

চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানহাটের আসকারাবাদ এলাকা আগ্রাবাদ ডিভিশনের ১৪ নম্বর ফিডারের আওতাভুক্ত। গত সোমবার দিন ও রাত মিলে এ ফিডারে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে ১৭ বার।

খুলশী বিতরণ বিভাগের অধীন টেক্সটাইল এলাকায় গত ৩-৪ দিন ধরে ঘণ্টায় ঘণ্টায় দেখা দেওয়া লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীর পাথরঘাটা, স্টেডিয়াম, ষোলশহর, কালুরঘাট, বাকলিয়া, মাদারবাড়ি, আগ্রাবাদ, হালিশহর, পাহাড়তলী, খুলশী, রামপুর, নিউমুরিংসহ পিডিবির সব বিতরণ বিভাগের গ্রাহকরাও। ব্যাহত হচ্ছে শিল্প কারখানার উৎপাদনও।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত