ঢাকা, সোমবার, ০৮ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯ আপডেট : ২ মিনিট আগে

'প্রকৃত আওয়ামী লীগ'-এর সার্টিফিকেট দিচ্ছে জামায়াত

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২২, ২৩:৪৬

'প্রকৃত আওয়ামী লীগ'-এর সার্টিফিকেট দিচ্ছে জামায়াত
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিবুল ইসলাম মুকিতকে ‘প্রকৃত আওয়ামী লীগ’ হিসেবে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি তাজুল ইসলাম মিলন। এনিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন।

ওই কমিটি ঘোষণার পর মাহিবুল ইসলাম মুকিতের বিরুদ্ধে ‘স্বাধীনতা বিরোধী ও জামায়াত পরিবারের সন্তান’ অভিযোগ ওঠে। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনও জমা দেয়। প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর কেটে গেছে এক মাস। কিন্তু এখনও কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি। এরই মধ্যে জামায়াত নেতার এই সার্টিফিকেট আগুনে ঘি ঢাললো।

নেতাকর্মীরা বলছেন, মুকিতের পক্ষে জামায়াত নেতার এই অবস্থানই সব পরিষ্কার করে দিয়েছে।

মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে আমিনুল ইসলাম নামে গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি বরাবর এক অভিযোগপত্র পাঠান। পরবর্তীতে এ বিষয়ে কেন্দ্রের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ তথ্যানুসারে সেই তদন্ত প্রতিবেদন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে পাঠায়।

মুকিতকে আওয়ামী লীগ থেকে যেন বহিষ্কার না করা হয়, সেজন্য স্থানীয় জামায়াত নেতারা এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের পলাশবাড়ী উপজেলার সেক্রেটারি তাজুল ইসলাম মিলন একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি মুকিতকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, তারা প্রথম থেকেই দাবি করেছেন, মুকিতের পিতা এক সময়ের দাপটশালী জামায়াত নেতা ছিলেন। সেই খোলস থেকে মুকিতও বের হতে পারেননি। আদতে সে কট্টর জামায়াত নেতা।

তারা আরও বলেন, মিলনের ভিডিও বার্তাই বলে দিলো, সেই দাবি সঠিক। একজন আওয়ামী লীগ কর্মী সে আদতে আওয়ামী লীগের নীতিতে বিশ্বাস করেন কিনা তা যদি জামায়াতের নেতাদের কাছ থেকে জানতে হয়, তাহলে এটি চোখ বুজে বলে দেয়া যায় সে আসলে কখনো ‘প্রকৃত’ আওয়ামী লীগ কর্মী ছিলো না, সে ‘প্রকৃত’ জামায়াত কর্মী।

একজন কট্টর জামায়াত নেতা কেন একজন সন্দেহভাজন আওয়ামী লীগ কর্মীকে ‘আসল আওয়ামী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে এগিয়ে আসবেন, সেই প্রশ্নও জোরালোভাবে উঠছে।

সম্প্রতি স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীনকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠে উপজেলার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহিবুল হাসান মুকিতের বিরুদ্ধে। এই মুক্তিযোদ্ধা নিজেই অভিযোগটি করেন। এই অভিযোগ ওঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাদের পক্ষ থেকে মুকিতকে দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি তোলা হয়।

এদিকে আওয়ামী লীগের আরেক পক্ষ তাকে বাঁচাতে মরিয়া! এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াত নেতারাও প্রচার করছেন, মুকিত একজন ‘প্রকৃত’ আওয়ামী লীগ কর্মী, তাকে যেন আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা না হয়!

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, মাত্র সাত বছর আগে ২০১৩ সালে মুকিতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে স্থানীয় প্রশাসন অনেক জিহাদি বই ও ধর্মকে ব্যবহার করে উস্কানিমূলক লেখা বই উদ্ধার করে। পারিবারিকভাবেই মুকিত জামায়াতের আদর্শ বহন করে আসছেন। তার নানা ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতার বিপক্ষে নির্বাচন করেছিলেন। এমনকি জামায়াত ইসলামের তৈরি করা কলেজে মুকিতের বাবা প্রতিষ্ঠাকালীন প্রিন্সিপালও ছিলেন।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিকে নিয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি মুকিততে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলো। মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও যখন মুকিত বহাল তবিয়তে নিজ দায়িত্বে রয়েছেন তখন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বুঝে ফেলেন তাদের সেই প্রতিবেদন তোয়াক্কাই করা হয়নি। তবে মুকিতকে তার ব্যক্তিগত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ উম্মে কুলসুম স্মৃতি। কিন্তু কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে এখনও মুকিতের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

মুকিতের বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। এ বিষয়ে ফোনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কনক বলেন, আসলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেও লজ্জা লাগছে। জামায়াত-শিবির পরিবারের সন্তানকে আশ্রয় দিচ্ছে আওয়ামী লীগ- এটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। আমরা পলাশবাড়ীর মুক্তিযোদ্ধারা খুব শিগগিরই বসছি আবার বিষয়টি নিয়ে। আগেই বলেছিলাম, ব্যবস্থা না নিলে কঠোর অবস্থানে যাবো আমরা।

পলাশবাড়ীর অপর বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা পলাশবাড়ীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। কেন এখনও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না মুকিতের বিরুদ্ধে, আমরা সামনে কী করবো- এ বিষয়ে আলোচনার পর জানাতে পারব। তবে আমরা এখনও আমাদের আগের দাবিটিই জানাচ্ছি। আর তা হলো, আওয়ামী লীগের যেকোনও কার্যক্রম থেকে মুকিতের অপসারণ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এআর/কেএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত