কোন ধরনের চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবে না

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২২, ১৬:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ছবি-নিজস্ব

হাটে গরু আনতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যারা গাবতলী এসেছেন, তারা চাঁদাবাজির শিকার হন উল্লেখ করে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আমরা কোনও আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। এসব বিষয় কঠোর নজরদারিতে রেখেছি। হাটকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি রুখতে বিশেষ নজরদারি রয়েছে। কোনও ধরনের চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। 

তিনি বলেন, আমাদের গোয়েন্দারা মাঠে রয়েছেন। যারা চাঁদাবাজি করবে, রাস্তায় ডাকাতির পরিকল্পনা করবে, এ সব বিষয়ে আমরা কঠোর মনিটরিং করছি। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গাবতলী গরুর হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বাসস্ট্যান্ডে ঘরমুখো মানুষের হয়রানি লাগবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, হাটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পরামর্শ দেয়া হয়েছে, সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে গরু কেনাবেচা করেন। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অনেক ওষুধ ব্যবহার করা হয়, এসব বিষয়ে নজরদারি রাখা হয়েছে। গাবতলী পশুর হাটে পশু ডাক্তারসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। কেউ যদি গরু মোটাতাজার ওষুধ আগে খাইয়ে নিয়ে আসেন, আর পরীক্ষায় সেগুলো ধরা পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খন্দকার মঈন বলেন, হাটে জাল টাকার ছড়াছড়ি রোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দেড় কোটি টাকার বেশি জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। টাকা নিয়ে কারো সন্দেহ হলে গাবতলী গরুর হাটে র‌্যাব ক্যাম্পে এসে তা মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, অনলাইনে বিপুল পরিমাণ গরু কেনাবেচা হচ্ছে। অনলাইনে সাইবার ওয়ার্ল্ডেও আমরা মনিটরিং করছি। ক্রেতারা যেন অনলাইনে গরু কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার না হন। হাটে এসে যেকোনও ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে র‌্যাব ক্যাম্পে এসে সহায়তা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা হয়, সে ব্যাপারেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। 

রেল স্টেশনে কালোবাজারের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে এসেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গত ঈদে আমরা কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত থাকায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। এ বছরও আমরা কমলাপুর রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে অনেককে গ্রেপ্তার করেছি।

ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজি, মলমপার্টি এদের বিষয়েও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে কমান্ডার মঈন বলেন, এ ধরনের অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত ৫ শতাধিক ব্যক্তিকে আমরা গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। নাগরিকরা কোনও ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হবেন। আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমাদের গোয়েন্দারা মাঠে রয়েছেন। যারা চাঁদাবাজি করবে, রাস্তায় ডাকাতির পরিকল্পনা করবে, এ সব বিষয়ে আমরা কঠোর মনিটরিং করছি। ফাঁকা ঢাকায় যেকোনও ধরনের চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। যারা বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাবেন, তাদের বাসার সিসিটিভি যেন সক্রিয় থাকে।

বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে যাতে করে অপরাধীরা অপরাধ করে পালিয়ে যেতে না পারে জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, যেকোনও উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত রয়েছে বলেও র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, পোশাক শ্রমিকরা অনেক সময় একসঙ্গে ছুটি পান এবং সে সময় বাড়ি যাওয়ার কারণে যানবাহনে এবং রাস্তায় ভিড় পরিলক্ষিত হয়। আমরা র‌্যাবের পক্ষ থেকে গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা যেন ঈদের আগে সব ধরনের বেতন-পাওনা দিয়ে ধাপে ধাপে ছুটি দিয়ে দেন।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলের কারণে অনেক সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। ফিটনেস বিহীন গাড়ি যেন মহাসড়কে চলাচল করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছি বলেও জানান র‌্যাব মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন। 

বাংলাদেশ জার্নাল/এফজেড/এমএস