ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ৭ মিনিট আগে

করোনা চিকিৎসায় আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি: আনোয়ার খান এমপি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২২, ১৯:১৩  
আপডেট :
 ০৭ আগস্ট ২০২২, ২১:৫৪

করোনা চিকিৎসায় আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি: আনোয়ার খান এমপি
নিজস্ব প্রতিবেদক

আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন খান এমপি বলেছেন, করোনার চিকিৎসা করে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। অথচ অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। আমরা অনেক লাভবান হয়েছি বলে প্রচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে যখন করোনার প্রকোপ বেড়ে যায়, সেই সময় বেসরকারি খাত থেকে কেউ করোনার চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কথায় শুধুমাত্র আমরাই করোনার চিকিৎসা দিতে রাজি হয়েছিলাম।

রোববার দুপুরে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসা সেবা ও শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য শিক্ষকদের নানা পরামর্শ দেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের থেকেও পরামর্শ শোনেন।

ড. আনোয়ার হোসেন খান বলেন, সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জন্য আমাদের ৩৬ জনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে রাষ্ট্রকে সহায়তা করার জন্য, জনগণকে সহায়তা করার জন্য আমাদের অনুরোধ করা হয়। বলা হলো সরকারি হাসপাতালগুলো সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। বেসরকারি খাত থেকে আপনারা এগিয়ে আসুন। সেই সময় কেউ করোনার চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি। আমি একমাত্র ব্যক্তি, যে দাঁড়িয়ে বললাম প্রধানমন্ত্রী আমাকে এমপি বানিয়েছেন, উনি যখন চাচ্ছেন আমি করবো। আমি রাজি হলাম।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি প্রসঙ্গে আনোয়ার খান বলেন, পৃথিবীর ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে। গত একশত বছরের মধ্যে এমন বিপর্যয় মানুষ দেখেনি। সরকার থেকে শুরু করে সবাই এই বিপর্যয়ের মুখোমুখি। করোনার সময় অনেককে আমরা হারিয়েছি। এই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সদের হারিয়েছি। আজ তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এই যুদ্ধে নেমেছিলোম। প্রত্যেকটি মানুষকে আমরা সেবা দিতে চেষ্টা করেছি। করোনায় মানুষ যখন মারা যাচ্ছে, সরকারি হাসপাতালে রোগীকে ১০ হাত দূরে থেকে খাওয়াচ্ছে। আমরা যখন চিকিৎসা শুরু করলাম, তখন আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে আমাদের ডাক্তার, নার্সরা চিকিৎসা দিয়েছে, সেবা করেছে।

তিনি বলেন, আমার সঙ্গে সরকারের চুক্তি ছিলো, আমরা হাসপাতাল দিয়েছি। লজেস্টিক সাপোর্ট দিয়েছি। সরকার ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা দেবে। আমাদের ডাক্তারদের টাকা দেবে। তবে নার্সদের টাকা দেবে না। কয়েক দিন যাওয়ার পরে পুরা হাসপাতালে করোনা রোগী ভরে যায়। তখন ডাক্তারদের হোটেলের রাখার টাকা, ওষুধের টাকা, বিভিন্ন খাবারের টাকা সরকার আর দিতে পারে না। একটা পর্যায়ে সরকার আমাকে ডেকে বলে, রোগীর কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে ব্যয় চালান। প্রথম পর্যায়ে সরকার কোনো টাকা-পয়সা আমাদের দেয়নি। রোগী থেকে কিছু টাকা নেই। তারপরও আমাদের প্রায় ১২-১৩ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। আমাদের মোট ক্ষতি হয়েছে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা।

আনোয়ার হোসেন খান বলেন, করোনার সময় বিভিন্নমুখী অর্থনৈতিক কষ্ট আসলো। চিকিৎসকদের টাকা ঠিক মত দিয়ে গেলাম। তাদের হোটেলে ঠিকমত রাখলাম। বিপর্যস্ত একটা অর্থনীতির মধ্যে আমি পড়ে গেলাম। অনেকে বলেন অনেক পয়সা আমরা নিয়েছি। মিডিয়াতে আমাকে নিয়ে নিউজ হলো। অনেক পয়সা কামিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যখন পাই টু পাই হিসাব দিলাম তখন তারা স্বীকার করলো করোনা চিকিৎসা দিতে গিয়ে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি বলেন, এখন আগস্ট মাস। শোকের মাস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ দিয়েছেন, মানচিত্র দিয়েছেন। তাকে স্মরণ করছি। ১৫ আগস্ট ঘাতকের গুলিতে যারা নির্মমভাবে শহীদ হয়েছেন তাদের শ্রদ্ধা জানাই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. এখলাসুর রহমান, উপাধ্যক্ষ ডা. মো. হাবিবুজ্জামান চৌধুরীসহ কলেজের অধ্যাপক, ডাক্তার ও ঊর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এএইচ/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত