ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ২৫ মিনিট আগে

লঞ্চ ভাড়া বাড়াতে গঠিত ওয়ার্কিং কমিটির প্রস্তাব জমা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২২, ১৬:৫৩

লঞ্চ ভাড়া বাড়াতে গঠিত ওয়ার্কিং কমিটির প্রস্তাব জমা
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে মালিকপক্ষ। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তাদের প্রস্তাবের বিষয়ে বৈঠকে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করে। গঠিত ওয়ার্কিং কমিটি আটটি ধাপ রেখে প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার কমিটির সদস্য সচিব বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সচিব স্যাবের দপ্তরে সব কিছু বিবেচনা করে এই প্রস্তাব জমা দেয়া হয়েছে। ১৯.৫ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে কোনো একটি ধাপ এখন বিবেচনা করতে পারে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে লঞ্চের ভাড়া ১৯.৫%, ২২%, ২৫%, ৩০%, ৩৫%, ৪০%, ৪২% কিংবা ৫০% বাড়ানো যেতে পারে।

প্রস্তাবে বলা হয়, ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি পেলে প্রতি কিলোমিটারে লঞ্চ ভাড়া বাড়বে ৪৫ পয়সা। ২২ শতাংশে বাড়বে ৫১ পয়সা, ২৫ শতাংশে ৫৭ পয়সা, ৩০ শতাংশে ৬৯ পয়সা, ৩৫ শতাংশে ৮০ পয়সা, ৪০ শতাংশে ৯২ পয়সা, ৪২ শতাংশে ৯৬ পয়সা আর ৫০ শতাংশ হলে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়বে ১ টাকা ১৫ পয়সা।

কেন আট ধরনের ভাড়ার হার প্রস্তাব করা হল জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে ২২ শতাংশ, তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৪২ শতাংশ আর মালিক সমিতি ৫০ শতাংশ দাবি করেছে ( যদিও মালিক সমিতি ১০০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল)। এই তিন বিষয় পর্যালোচনা করে এই ধাপগুলো তৈরি করা হয়েছে। সরকার এখান থেকে উপযুক্ত একটি নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করবে।

এতদিন ১০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারের লঞ্চ ভাড়া ২ টাকা ৩০ পয়সা, আর দূরত্ব ১০০ কিলোমিটারের বেশি হলে ভাড়া ২ টাকা ছিল। লঞ্চের সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ৩০ টাকা।

গত বছরের নভেম্বরে ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ানোর পর লঞ্চের ভাড়া ৩৫ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে এই হার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল।

গত রোববার বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতি ভাড়া দ্বিগুণ করার একটি প্রস্তাব বিআইডব্লিউটিএতে পাঠায়।

সেখানে ১০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়িয়ে ৪ টাকা ৬০ পয়সা; ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ৪ টাকা ভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে মালিক পক্ষ।

তাদের প্রস্তাবে বলা হয়, সরকার কর্তৃক জ্বালানি তেলের (ডিজেল) মূল্য লিটারে ৩৪ টাকা বৃদ্ধি করায় এবং বিশ্ব বাজারে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের খোলা বাজারে মবিলের মূল্য ৫০ শতাংশ, প্লেট, অ্যাঙ্গেল, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড ও গ্যাসসহ স্পেয়ার পার্টসের মূল্য প্রায় ২০০ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই হারে লঞ্চের ভাড়া নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সোমবার নৌ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ওই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর নৌ সচিব মো. মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, মালিকপক্ষের প্রস্তাব তারা ‘যৌক্তিক মনে করছেন না’। সেজন্যই ওয়ার্কিং কমিটি করা হয়েছে।

মালিকদের প্রস্তাবিত ভাড়ার হার বেশি। কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য কাজ করবে ওয়ার্কিং কমিটি। প্রজ্ঞাপন হওয়ার আগ পর্যন্ত আগের ভাড়াতেই লঞ্চে যাত্রী পরিবহন করা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত