ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ৩ মিনিট আগে

ফরিদপুর জেলা কারাগারে নেই কোনো চিকিৎসক, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বন্দিরা

  ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২২, ১৩:৫৮

ফরিদপুর জেলা কারাগারে নেই কোনো চিকিৎসক, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বন্দিরা
ছবি: প্রতিনিধি
ফরিদপুর প্রতিনিধি

১৮২৫ সালে ৩৪ একর জায়গা নিয়ে ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র মূল সড়কের (মুজিব সড়ক) ঝিলটুলী এলাকাতে প্রতিষ্ঠিত হয় ফরিদপুর জেলা কারাগার। এই কারাগারের ৯ একর জায়গা বন্দিদের থাকার ব্যবস্থার স্থাপনা নির্মিত হয়েছে, অন্য ২৫ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে পুকুর, কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসনের ইমারত।

তবে এ জেলা কারাগারের নেই কোন চিকিৎসক, অসুস্থ বন্দিদের জন্য ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই, নেই কারাগারের ভেতরে বন্দি অসুস্থ রোগীদের ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ। প্রাচীন এই কয়েদখানায় বিপুল সংখ্যক বন্দিদের জন্য টিনসেডে ঘরের একটি কক্ষে রোগীদের জন্য রাখা হয়েছে, যদিও তা ব্যবহারের অনুপযোগী ।

জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে বিভিন্ন রোগ নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে এক হাজার ৫০ বন্দি, বর্তমানে দুই জন বন্দি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে ভর্তি রয়েছে। এছাড়াও গত এক মাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে এক বন্দি। ফরিদপুরের কারাগারের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার দায়িত্বে থাকা ফার্মাসিস্ট আশরাফুল আলম জানান, কম করে হলেও কারাগারে বন্দিদের জন্য ২ থেকে ৩ জন চিকিৎসক দরকার। এছাড়াও অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য পৃথক একটি হাসপাতালে দরকার। পাশাপাশি ৩ থেকে ৪ জন সেবিকা ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখার দরকার বলে মনে করেন এ ফার্মাসিস্ট।

ফরিদপুর কারাগারের তত্বাবধায়ন আল-মামুন জানান, প্রাচীন এই বন্দিশালায় ধারণ ক্ষমতা রয়েছে বর্তমানে ৪২০ জন। বর্তমানে ৮৯৭ জন পুরুষ ১৭ নারী বন্দি অবস্থান করছেন, যদিও প্রতিদিন বন্দি কম-বেশি আপডাউন করে। এখানে একটি পদ রয়েছে (সহকারি সার্জন) সেটি এক যুগের বেশি সময়ে শূন্য রয়েছে।

তিনি বলেন, বন্দিদের কেউ অসুস্থ হলে আমরা ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করি। এছাড়াও জেলা সিভিল সার্জন অফিস একজন চিকিৎসককে প্রেষনে দায়িত্ব দিয়েছেন, তিনি মাঝে মধ্যে আছেন। এর বাইরে আমাদের একজন সিনিয়র ফার্মাসিস্ট রয়েছে। এছাড়া যে জনবল রয়েছে তাতে বন্দি রোগী একজনকে বাইরের হাসপাতালে প্রেরণ করলে তার পেছনে তিন জন ফোর্স দিতে হয়। এতে অন্য কাজের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।

জেলা কারাগারের তত্বাবধায়ক আরও জানান, শুধু ফরিদপুর কারাগারে বন্দি নয় পাশ্ববর্তী অন্য জেলার কারাগার থেকে অসুস্থ বন্দি আসেন এখানে। আমরা তাদের কারা বিধি নিয়মানুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য কারারক্ষীদের প্রহরায় সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ফরিদপুর কারাগারের বেসরকারি কারা পরিদর্শক কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, ফরিদপুরের কারাগারের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বন্দি রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই বন্দিদের নানা বিধ সমস্যা হয় এটা সত্য। তবে আমার পরামর্শ হলো কারাগারের বন্দিদের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশা-পাশি চিকিৎসা সেবাসমূহ নিশ্চত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিতে হবে। ফরিদপুর কারাগারের বন্দিদের চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অতুল সরকার বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে একজন চিকিৎসকে কারাগারের সংযুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারাগার পরিদর্শন করা হয়, বন্দিদের সুবিধা-অসুবিধা খোঁজ নেয়া হয়। বড় কোন সমস্যা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/জিকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত