ঢাকা, শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ আপডেট : ৫০ মিনিট আগে
শিরোনাম

শিক্ষক দম্পত্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি

  গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২২, ১২:৪৪

শিক্ষক দম্পত্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি
ছবি- প্রতিনিধি
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার দক্ষিণ খাইলকুর বগারটেক এলাকায় প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে শিক্ষক দম্পত্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শুক্রবার সকাল পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। এছাড়া পুলিশ তাদের মৃত্যুর কোনো কারণও খোঁজে পায়নি।

নিহতরা হলেন, গাজীপুরের টঙ্গীর শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম জিয়াউর রহমান (৫১) ও তাঁর স্ত্রী মোসা. মাহমুদা আক্তার ওরফে জলি (৩৫)। তিনি টঙ্গীর আমজাদ আলী সরকার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নন্দলাল চৌধুরী বলেন, নিহতদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়। রাতেই গাজীপুরে তাদের জানাজার নামাজ শেষ করে ময়মনসিংহের ত্রিশালের তাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের করা হয়নি। এছাড়া তাদের মৃত্যুর কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর তাদের মৃত্যু সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে। তবে এরই মধ্যে তারা তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান শাফি মোহাইমেন জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে মরদেহ দুইটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তাদের দুইজনের ফুসফুসে ও কিডনিতে জমাট রক্ত পাওয়া গেছে। এটা খাবারে বিষক্রিয়া বা অন্য কারণেও হতে পারে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তাদের শরীরের বিভিন্ন নমুনা ঢাকায় সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

নিহত একেএম জিয়াউর রহমানের ভগ্নিপতি আব্দুর রশিদ বলেন, রাতে গাজীপুরে নিহতের জানাজার নামাজ শেষে ময়মনিসংহের ত্রিশালে গ্রামের বাড়িতে তাদের দাফন করা হয়েছে। সাবাই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত তাই মামালা দায়ের করতে বিলম্ব হচ্ছে।

নিহত ব্যক্তিদের স্বজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে কামারজুরি এলাকার নিজ বাড়ি থেকে প্রাইভেটকার নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে বের হন ওই শিক্ষক দম্পতি। কারটি জিয়াউর রহমান নিজেই চালাতেন। স্কুল শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। এর পর থেকে তাঁদের কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনেরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেন।

ভোররাতে মহানগরের দক্ষিণ খাইলকুর বগারটেক এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা তাঁদের গাড়ির ভেতর চালকের আসনে প্রধান শিক্ষক ও পাশের আসনেই স্ত্রীর নিথর দেহ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে তাঁদের প্রথমে বোর্ডবাজার এলাকার তায়রুন্নেছা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত