ঢাকা, রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ১০ মিনিট আগে

ছাত্রলীগ নেতা রানা হত‌্যাকা‌ণ্ড: পলাতক আসা‌মি গ্রেপ্তার

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪:১৩  
আপডেট :
 ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:২২

ছাত্রলীগ নেতা রানা হত‌্যাকা‌ণ্ড: পলাতক আসা‌মি গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার মো. ইকবাল হোসেন তারেক। ছবি: বাংলাদেশ জার্নাল
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৪ সালে রমনা থানা ছাত্রলীগের তৎকালীন সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান ওরফে রানাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তা‌রি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসা‌মি মো. ইকবাল হোসেন তারেককে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সুইফ ক্যাবল লিমিটেড নামক এক‌টি ডিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তারেক। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন কামরুল ইসলাম এবং তানভিরুজ্জামান রনি। তাদের সঙ্গে নিহত মাহবুবুর রহমান রানার ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ নিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ডিসের ক্যাবল কেটে দিত এবং উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ লাগত।

এসব ঘটনার জের ধরে ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রানা মোটরসাইকেলে মগবাজার চৌরাস্তা থেকে মসজিদের পাশের গলিতে প্রবেশ করলে বাটার গলির মুখে গতিরোধ করে মুখে ও মাথায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারেক ও হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া অন্যরা। ওই সময় স্থানীয় লোকজন সাহায্যের জন্য এগিয়ে গে‌লে তারা বোমা বিস্ফোরণ ঘটি‌য়ে এবং গুলি ছোড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয়রা রানাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি বোমা ও রক্তমাখা চাপাতি উদ্ধার করে।

ওই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা হয়। মামলার পরই জড়িতরা আত্মগোপনে চলে যান। মামলার ঘটনায় সুইফ ক্যাবল লিমিটেডের মালিক কামরুল ইসলাম অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন।

মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৪ জন আসামির বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযুক্ত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার এবং চার জন পলাতক ছিলেন। পলাতক আসামির মধ্যে ইকবাল হোসেন তারেক (৩৮) একজন। তার নামে ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর আদালত হতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

হত্যাকাণ্ডে তারেকের জড়ানোর কারণ সম্পর্কে লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০১১ সাল থেকে হত্যাকাণ্ডের আগে পর্যন্ত তারেক তৎকালীন সুইফ ক্যাবল লিমিটেড নামক ডিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। চাকরির পাশাপাশি তিনি মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। ওই সময় তিনি নিজেকে ইকবাল হোসেন ওরফে তারেক (৩৩) ও পিতার নাম নুরুল ইসলাম বলে পরিচয় দেন। তার গ্রেপ্তারের পেছনে নিহত রানা গ্রুপের হাত ছিল বলে ক্ষোভ তৈরি হয় তারেকের। সেই ক্ষোভ এবং ডিস মালিকের নির্দেশে রানা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় তারেক।

হত্যাকাণ্ডের পর তারেক চাঁদপুর এলাকায় গিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। এরপর যশোর গিয়ে মাদক ব্যবসায় জড়ান। ২০১৯ সালে ঢাকায় এসে বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে পরিত্যক্ত কার্টুন সংগ্রহ করে বিক্রি করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে থাকেন তারেক। মাদকসহ একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেও নিজের নাম তাহের ও পিতা আব্দুর রহিম হিসেবে পরিচয় দেয়। ফলে সে একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও রানা হত্যা মামলার দায় হতে রক্ষা পেয়ে যান। তার নামে হত্যা ও মাদকসহ ৪টি মামলা রয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/সুজন/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত