ঢাকা, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ আপডেট : ১০ মিনিট আগে
শিরোনাম

দাফনের সময় কান ও মাথা দিয়ে রক্তক্ষরণ

প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য: সাপের কামড় নাকি পরিকল্পিত হত্যা?

  ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২১:১১

প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য: সাপের কামড় নাকি পরিকল্পিত হত্যা?
মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামান এপো। ফাইল ফটো

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে বদিউজ্জামান এপো (৫০) নামে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। প্রথমে সর্প দংশনে মৃত্যু বলে প্রচারের পর লাশ দাফন করা হচ্ছিল। এ সময় দেখা গেলো মৃত ব্যক্তির কান ও মাথার পেছন দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

রোববার বিকেলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার এস্তেফাপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামান এপো পোড়াহাটী ইউনিয়নের এস্তেফাপুর গ্রামের আমিরুল ইসলাম লতার ছেলে।

প্রথমে প্রচার করা হয় শনিবার রাতে তিনি স্বর্প দংশনের শিকার হন। মধ্যরাতে কিছু অজ্ঞাত যুবক বদিউজ্জামান এপোর বড় মেয়ে চৈতীকে ফোন করে জানায় তার বাবাকে স্বর্প দংশন করেছে। খবর পেয়ে তার মেয়ে হাসপাতালে পৌঁছে অজ্ঞাত ওই যুবকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন এবং বলেন ‘তোরা আমার বাবাকে হত্যা করেছিস’। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক বদিউজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন।

রহস্যময় এই মৃত্যুর ঘটনা পারিবারিকভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। রোববার বাদ জোহর লাশ দাফনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। জানাজা শেষে বদিউজ্জামানের লাশ যখন কবরস্থ করা হচ্ছিল, তখন তার মাথার পেছন ও কান দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দাফনে বাধা দেন এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

নিহতের প্রতিবেশীরা জানান, বদিউজ্জামানকে যদি সাপে দংশন করতো তাহলে তার মুখ দিয়ে লালা বের হতো এবং চেহারায় কালো ছাপ থাকতো। সাপে কাটার কোনো লক্ষণ মৃতের শরীরে নেই। তাছাড়া নিজের পুকুরপাড়ে দংশন করা ব্যক্তিকে কারা পার্শ্ববর্তী বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে নিয়ে গেলো এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রাতের আঁধারে ডেকে প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামানকে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বদিউজ্জামানের স্ত্রী পাখি খাতুন।

নিহতের ছোট ভাই কলেজশিক্ষক খায়রুজ্জামান সাইফুল বলেন, আমরা হাসপাতালে পৌঁছে দেখি বড় ভাই মারা গেছেন। কীভাবে ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে আমরা সঠিকভাবে জানি না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিহত প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামানের সঙ্গে স্থানীয় চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। তার নামে অনেক মিথ্যা মামলাও করা হয়। দীর্ঘ মামলা-মোকদ্দমা শেষে আদালতের নির্দেশে সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বদিউজ্জামানের মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করার কথা ছিল। বিদ্যালয়ে যোগদানের আগেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, বদিউজ্জামানের মৃত্যু রহস্যজনক। স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল বলে শুনেছি। এ কারণে তাকে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

ওসি বলেন, আদালতের নির্দেশে সোমবার স্কুলে যোগদান করার কথা ছিল তার। স্কুলে যোগদানের একদিন আগে তার এমন মৃত্যু আমরা রহস্যের চোখে দেখছি এবং লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নিয়েছি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত