উত্তরায় ‘স্পাইডারম্যান’ খ্যাত চোরচক্রের মূল হোতা গ্রেপ্তার

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২৩:২১ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রেপ্তার বিল্লাল হোসেন ও নুরুল্লাহ রাকিব

রাজধানীর উত্তরায় নভোএয়ারের ফ্লাইট অপারেশন অফিসে চুরির ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুইজন হলেন- বিল্লাল হোসেন (২২) এবং নুরুল্লাহ রাকিব (২০)। বিল্লাল ময়মনসিংহের পাগলা থানার শামসুল হকের ছেলে এবং রাকিব ফেনীর সোনাগাজী থানার নুর নবীর ছেলে। 

তাদের মধ্যে বিল্লাল দেয়াল বা পাইপ বেয়ে পাঁচতলায় ওঠার দক্ষতার কারণে চোর মহলে খ্যাতি পেয়েছে ‘স্পাইডারম্যান’ হিসেবে। বিল্লাল এই চোর চক্রের নেতা। গত ১০ বছরে ৫০০ এর বেশি চুরির ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

গত ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে নভোএয়ারের ফ্লাইট অপারেশন অফিসে চুরি হয়। ওই ঘটনায় মামলার পর তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তকালে ঘটনাস্থলসহ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও নানা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মোহসীন বলেন, রোববার প্রথমে ময়মনসিংহ থেকে চোরচক্রের প্রধান বিল্লালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে টঙ্গী থেকে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ওই অফিস থেকে চুরি করা একটি ল্যাপটপ এবং গ্রিল ভাঙার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিল্লাল চুরির জন্য ঢাকার বিভিন্ন অফিস টার্গেট করতেন। রাতের বেলা অফিসে লোকজন না থাকার সুযোগ নিতেন তিনি। এসব অফিসে গিয়ে ল্যাপটপ চুরি করাই তার মূল লক্ষ্য ছিলো। 

ওসি জানান, অফিস ভবনে উঠতে তার সিঁড়ির প্রয়োজন হতো না। দেয়াল কিংবা পাইপ বেয়েই তিনি যে কোনো ভবনের পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে যেতে পারেন অনায়াসে। এ কারণে তাকে ‘স্পাইডারম্যান’ বিল্লালও ডাকা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্জাসাবাদে তারা জানতে পেরেছেন, বিল্লাল তার ২২ বছরের জীবনের ১০ বছর ধরেই চুরি করছেন। ১২ বছর বয়সে তাকে দলে নেন সাইফুল নামের আরেক চোর। ওই সময়ে একটি চুরির ঘটনায় বনানী থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন বিল্লাল।

শিশু বয়সে শারীরিক গঠন ছোট হওয়ায় আর গ্রিল বেয়ে ভবনে উঠতে পারায় সাইফুল তাকে বাড়ির ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা খোলার কাজে ব্যবহার করতো। ধীরে ধীরে কাজে সিদ্ধহস্ত হওয়ার পর সাইফুলকে ছেড়ে নিজেই গ্যাং তৈরি করে বিল্লাল। গত ১০ বছরে পাঁচ শতাধিক চুরি করেছেন বলে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন বিল্লাল।

ওসি মোহসীন জানান, চোরাই ল্যাপটপ বিক্রির জন্য বিল্লাল যে সবসময় ক্রেতা পেয়েছেন, তা নয়। তাই বাধ্য হয়ে মাঝে মাঝে ২ হাজার, ১ হাজার, এমনকি ৫০০ বা ২০০ টাকাতেও তিনি ল্যাপটপ বিক্রির করে দিতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। চুরির টাকা দিয়ে বিল্লাল ময়মনসিংহ গ্রামের বাড়িতে পাকা বাড়িও করেছেন। 

বাংলাদেশ জার্নাল/সুজন/জিকে