ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ আপডেট : ৩ মিনিট আগে
শিরোনাম

টঙ্গীতে ১৪ ঘণ্টায় তিন খুন

  গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৫:০৪  
আপডেট :
 ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৬:০৯

টঙ্গীতে ১৪ ঘণ্টায় তিন খুন
টঙ্গীতে বন্ধুকে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত সেলসম্যান খাইরুল ইসলাম বুলবুল। ছবি: প্রতিনিধি
গাজীপুর প্রতিনিধি

টঙ্গীতে পৃথক ঘটনায় ১৪ ঘণ্টায় মধ্যে নারীসহ তিনজন খুন হয়েছেন। সোমবার মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন মরকুনের হাতেম কারখানা, টঙ্গী বাজার ও শৈলারগাতী এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম ও স্থানীয়রা জানান, দুষ্টুমি করতে গিয়ে সেলসম্যানের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার বন্ধু এক দোকানের কর্মচারি নিহত হয়েছেন। টঙ্গী বাজারের মা মিষ্টান্ন ভান্ডারে (মাধব ঘোষের দোকান) এ ঘটনা ঘটে। মিষ্টির ওই দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করতেন মোস্তফা কামাল (২৪)। একই দোকান থেকে মিষ্টি নিয়ে সেলসম্যান হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতেন খায়রুল ইসলাম বুলবুল (৪৫)।

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি জানান, বন্ধুত্বের সম্পর্কের কারণে তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায় নিজেদের মধ্যে দুষ্টুমি করতো। রবিবার রাত ৮টার দিকে দুষ্টুমি করার সময় সেলস্ম্যান খাইরুলের বিরুদ্ধে পঁচা বাসি মিষ্টি বিক্রির কথা বলেন মোস্তফা। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় খাইরুল উত্তেজিত হয়ে দোকানে থাকা ছুরি দিয়ে মোস্তফার ঘাড়ে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মোস্তফা। দোকানের অন্যান্য কর্মচারিরা তাকে উদ্ধার করে রাজধানী উত্তরার একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তিনি জানান, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে মারা যান মোস্তফা কামাল। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের আশ উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত খাইরুলকে আটক করে। নিহত মোস্তফা কামাল ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নয়নপুর গ্রামের আব্দুল কাদে মন্ডলের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত খায়রুল ইসলাম বুলবুল বগুড়া জেলা সদর থানার ছোট বেলাইল এলাকার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে।

এদিকে একই থানার এসআই সাব্বির হোসেন জানান, মহানগরীর মরকুন এলাকার হাতেম ফ্যাক্টরির সিলেটিং সেকশনের ভিতর থেকে সোমবার সকালে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ওই ব্যক্তির মাথায়, পিঠে ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রবিবার রাতে কাজ শেষে কারখানা ছুটি হলে শ্রমিকরা কারখানা ত্যাগ করে। শ্রমিকরা চলে যাওয়ার পর রাতে কারখানার বাহিরে শুধুমাত্র কারখানার সিকিউরিটি গার্ড দায়িত্বরত ছিল। সোমবার সকালে কারখানায় কাজে যোগ দিতে এসে কয়েক শ্রমিক ওই লাশ দেখতে পেয়ে ৯৯৯ এ সংবাদ দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ওই লাশ উদ্ধার করে।

অপর ঘটনায় ওই থানার এসআই সুমন খান জানান, টঙ্গীর শৈলারগাতী এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয়ার পরদিন সোমবার জান্নাতি খাতুন ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌস (১৮) নামের ওই নারীর গলায় ওড়না পেঁচানো লাশ তার ঘর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী দেলোয়ার হোসেন জব্বার ওরফে জালাল পলাতক রয়েছে।

এব্যাপারে বাড়ির মালিক ইয়াছিন মিয়া জানান, বাড়ির তৃতীয় তলায় বাসা ভাড়া নিয়ে রবিবার রাত ১১টার দিকে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে নিয়ে উঠেন জালাল। সোমবার দুপুরের পর বাড়ির বাহির থেকে জালাল ফোন দিয়ে জানান তার স্ত্রীর কি যেন হয়েছে। তাকে গিয়ে যেন সাহায্য করে। এ সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেশীরাসহ গিয়ে গলায় ওড়না পেঁচানো জান্নাতির লাশ বিছানার উপর পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।

এসআই সুমন খান আরও জানান, নিহত জান্নাতি বগুড়া জেলার শেরপুর থানার ধনকুন্ডি গ্রামের মো. আরিফ শেখের মেয়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে তার কথিত স্বামী জালাল।

ওসি জানান, পৃথক তিনটি ঘটনায় নিহতদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/জিকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত