ঢাকা, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও চাহিদার সাথে সমন্বয় না থাকায় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১৪:৫৫

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও চাহিদার সাথে সমন্বয় না থাকায় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান সময়ে বিদ্যুতের উৎপাদন, সরবরাহ, ও চাহিদার সাথে জাতীয় গ্রিডের উন্নয়ন না করা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার না করার কারণেই জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় হতে পারে বলে মনে করে গ্রাহক অধিকার নিয়ে সোচ্চার বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন।

বৃহস্প‌তিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, পিজিসিবি দাবি করছে তারা জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড ও সঞ্চালনকে আধুনিক প্রযুক্তিগতভাবে মান উন্নয়ন করেছেন। তাহলে আমাদের প্রশ্ন দু'দিন অতিবাহিত হলেও গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ জানা যাচ্ছে না কেনো? আধুনিক প্রযুক্তি যদি ব্যবহার করাই হতো তাহলে ত্রুটি কোথায় তা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সঙ্গে সঙ্গে সনাক্ত করা যেতো। অথচ পিজিসিবি'র কাছে ন্যাশন ওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) ফাইবার লাইসেন্স রয়েছে এবং তারা বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সিগন্যাল ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে এই ফাইবার ব্যবহার করে থাকেন।

প্রযুক্তিগত এতো বিশাল মাপের একটি ফাইবার নেটওয়ার্ক তাদের হাতে থাকা সত্ত্বেও তারা প্রযুক্তিগত ব্যবহার গড়ে তুলতে পারেনি। নিজেরা ব্যবহার করতে না পারলেও বেসরকারি টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিগুলির কাছে তাদের ফাইবার লিজ দিয়ে প্রতি বছরে শত শত কোটি টাকা মুনাফাও করছে পিজিসিবি।

অন্যদিকে গতমাসে সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত সার্ট সংবাদ সম্মেলন করেও পিজিসিবিকে সতর্ক করেছিলো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পিজিসিবি কতটুকু সাইবার নিরাপত্তায় উন্নতি করেছে সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

৩০-৪০ বছর আগের গ্রিডের সক্ষমতা খুব একটা না বাড়লেও উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণ। ২০০৯ সালে যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ছিলো মাত্র ২৭ টি, তা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৪ টি। উৎপাদন ক্ষমতা ছিলো যেখানে ৪৯৪২ মেগাওয়াট বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৭৩০ মেগাওয়াট (ক্যাপটিপ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ)।

এর স‌ঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সাইবার হামলাকারীদের উৎপাত। তাই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রিডের সক্ষমতা ও নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে একটি প্রযুক্তিগত ইকো সিস্টেম গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরী। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায় বিশেষ ইউনিট গঠন করাও জরুরী।

বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার বিঘ্ন ঘটায় চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট সেবা, মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ভিত্তিক এটিএমসহ সকল কার্যক্রম। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও টেলিকমিনিকেশন সেবা সচল রাখতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন হওয়া জরুরী।

জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ের ফলে সকল ধরনের যোগাযোগ ও কার্যক্রম বন্ধ হয়ে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছিলো।‌ আগামী দিনে যাতে এই ধরনের বিপর্যয় আর না ঘটে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি।

বাংলাদেশ জার্নাল/সুজন/রাজু

  • সর্বশেষ
  • পঠিত