ঢাকা, বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯ আপডেট : ১১ মিনিট আগে
শিরোনাম

মুম্বাই হামলার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০০:১২

মুম্বাই হামলার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে
রাজশাহী শহরের কামরুজ্জামান চত্বরে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার ১৪তম বার্ষিকী স্মরণে এ মানববন্ধন ও র‍্যালির আয়োজন করে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশ।ছবি- প্রতিনিধি
নিজস্ব প্রতিবেদক

পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী শহরের কামরুজ্জামান চত্বরে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার ১৪তম বার্ষিকী স্মরণে এ মানববন্ধন ও র‍্যালির আয়োজন করে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশ।

পূর্ব নির্ধারিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনটির রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি লেখক ও সাংবাদিক এয়াকুব বাদশা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের রাজশাহী বিভাগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা জেমস, নৌবাহিনী কমান্ডার (অব.) ও আসক ফাউন্ডেশন রাজশাহী বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা এনামুল হক, রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম,

বঙ্গবন্ধু কলেজ রাজশাহীর অধ্যক্ষ ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির (ঘাদানিক) সহকারী মহাসচিব অধ্যাপক কামরুজ্জামান, ঘাদানিকের রাজশাহী সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব তামিম সিরাজী, বোয়ালিয়া থানা নির্মূল কমিটি সাধারণ সম্পাদক রনি সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কমান্ডার মনিরুল ইসলাম, বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক আহমেদ, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশ রাজশাহী মহানগর সদস্য সচিব সালাউদ্দিনসহ অনেকে।

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি লেখক ও সাংবাদিক এয়াকুব বাদশা বলেন, বিগত ১৪ বছর হলেও পাকিস্তান মুম্বাই বিস্ফোরণের কুশীলবদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিচারের নামে চলছে প্রহসন। ২০০৮ সালের মুম্বাইয়ে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটানোর নেপথ্য নায়কেরা পুরস্কৃতও হয়েছে পাকিস্তানে। ভারতের পক্ষ থেকে প্রামাণ্য নথিপত্র দেওয়া হলেও পাকিস্তান সরকার লোক দেখানো কিছু বিবৃতি দেয়া ছাড়া মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসী হামলাকারীদের কোনো শাস্তি নিশ্চিত করতে পারিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও সেনাবাহিনী পরিচালিত পাক সরকারের এ বিষয়ে কোনো তৎপরতা নেই। মুম্বাই হামলা নিয়ে ইসলামাবাদের আচরণ প্রমাণ করছে মুম্বাইয়ের ২৬/১১ হামলা ছিল পাকিস্তানের সরকারি মদদে ভয়ঙ্কর এক সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাকান্ড। মুম্বাই হামলার মূল চক্র লস্কর-এ-তৈয়বার (এলইটি) প্রধান হাফিজ সঈদ ও তার সঙ্গীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে ব্যস্ত ইসলামাবাদ।

বিশেষ অতিথি বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা জেমস বলেন, ২৬ নভেম্বর বিশ্বে সন্ত্রাসী হামলার ইতিহাসে এক ভয়াবহতম দিন। ২০০৮ সালের এই দিনে ভারতের মুম্বাই শহরে পাঁচতারকা হোটেলসহ আরো ১২টি স্থানে একযোগে হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তানি সন্ত্রাসীরা। কেড়ে নিয়েছিল দেশি-বিদেশিসহ ১৬৬ জন নিরপরাধ মানুষের প্রাণ। সন্ত্রাসীরা পাকিস্তান থেকে সমুদ্রপথে এসে মুম্বাই প্রবেশ করেছিল। ভারতের ইতিহাসে ভয়াবহতম এই হামলার ঘটনার আজ এক যুগ পেরিয়ে গেছে, কিন্তু এখনো সেই ভয়াবহ হামলার সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু বিচার হয়নি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তানের মদদপুষ্ট জঙ্গিদের এক নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলায় ভারতের মুম্বাইয়ের তাজ হোটেল এবং সংশ্লিষ্ট এলাকা এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। যেখানে ভারতীয়সহ ২২টি দেশের কয়েকশ নাগরিক হতাহত হয়েছিলেন। পাকিস্তান কীভাবে বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জঙ্গিবাদ রফতানিসহ ধর্মের নামে হত্যা, সন্ত্রাস ও ধ্বংসযজ্ঞ সাধন করে তা আমরা ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকাল থেকে প্রত্যক্ষ করছি।

সভাপতির প্রারম্ভিক ভাষণে কামরুজ্জামান বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে হামলার ব্যাপারে প্রামাণ্য নথিপত্র দেয়া হলেও পাকিস্তানি সরকার লোক দেখানো কিছু বিবৃতি দেয়া ছাড়া কোনও শাস্তি দেয়নি মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসী হামলাকারীদের।

বাংলাদেশ জার্নাল/সুজন/এমএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত