ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯ আপডেট : ২৫ মিনিট আগে
শিরোনাম

কৃত্রিম পা পেলেন কলেজছাত্র হিমেল

  সাব্বির হোসেন, সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৯:২৬

কৃত্রিম পা পেলেন কলেজছাত্র হিমেল
পঙ্গু হিমেলের জন্য উপহার হিসেবে একটি কৃত্রিম পা দেন প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। ছবি: প্রতিনিধি
সাব্বির হোসেন, সাভার প্রতিনিধি

প্রায় আটমাস আগে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের রামদায়ের কোপে বাম পা হারান কলেজ পড়ুয়া হিমেল নামের এক ছাত্র। এরপরেই জীবনের সব স্বপ্ন বদলে যায় তার।

দুর্বিষহ সেই স্মৃতিটা আজও টাটকা কিশোর হিমেলের কাছে। সেদিন ছিল ২০২২ সালের ১৮ মে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার এবং তার বাবা মোকাররম হোসেনের ওপর রামদা হাতে হামলা চালায় প্রতিবেশী জেনরাল নামক এক ব্যক্তি। বাঁচার জন্য বাবা-ছেলে দুজনে দৌড়ে পালাতে চেয়েছিলেন কিন্তু হোঁচট খেয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়া বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে রামদার কোপে মারাত্মক জখম হয় তার বাঁ পা। এরপর কেটে ফেলতে হয় সেই পা।

এত দিন ক্রাচে ভর করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল এই কলেজ ছাত্রের দুর্বিষহ জীবন। দেয়া হয়নি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড কেন্দ্রে (সিআরপি) তাঁর কৃত্রিম পা সংযোজন হয়েছে।

হিমেলের জীবন বদলে দেয়ার পেছনে ছিল বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের অবদান। দীর্ঘদিন ব্যয়বহুল চিকিৎসা সেবা গ্রহণের কারণে আর্থিকভাবে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল পরিবারটি। আর তখনই পরিবারটির পাশে দাঁড়ান প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

বুধবার দুপুরে সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) উপস্থিত হয়ে প্রতিমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে পঙ্গু হিমেলের জন্য উপহার হিসেবে একটি কৃত্রিম পা দেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, হিমেল আমার নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ছেলেটির একটি পা হারাতে হয়। খবরটি শোনার পর থেকেই আমি তার পরিবারের সাথে কথা বলে তার খোঁজ খবর রেখেছি। তরুণ একটি ছেলে যে কিনা এখনও কলেজের গণ্ডি পেরুতে পারেনি তার এমন ক্ষতি সত্যিই মেনে নেয়া কষ্টকর।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর আজকে ছেলেটির জন্য একটি কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করেছি জনপ্রতিনিধি হিসেবে কিংবা সমাজের একজন দায়িত্ববান ব্যক্তি হিসেবে এধরনের সহযোগিতা এবারই প্রথম নয়। সমাজের সবারই উচিৎ এধরনের কাজে এগিয়ে আসা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো। আর এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে যাচ্ছে সিআরপি। প্রতিদিন এ ধরনের প্রায় হাজার খানেক মানুষ এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা পরবর্তী সেবা গ্রহণের জন্য আসছে এটি সত্যিই দারুণ প্রশংসনীয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমপি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত