ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪২৯ আপডেট : ৫ মিনিট আগে
শিরোনাম

আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩:৫৫

আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ
প্রধান শিক্ষক নুরুনবী চায়েন।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা কেদারনাথ (কেএন) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুনবী চায়েনকে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে চড় থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা মোহন জোয়ার্দ্দার। তিনি কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনেই চড়-থাপ্পড় মেরে গলায় ধাক্কা দিয়ে লাঞ্চিত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই বিদ্যালয়টির অফিস কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়টির অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, আওয়ামী লীগ নেতা মোহন জোয়ার্দ্দার তার নিজের জন্য অষ্টম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট নিতে বিদ্যালয়ে আসেন। খাতায় তার নাম রয়েছে আল-আমীন। কিন্তু তিনি মোহন জোয়ার্দ্দার নামে একটি সার্টিফিকেট নিতে চান। নামের মিল না থাকায় সার্টিফিকেট দিতে প্রধান শিক্ষক অপারগতা প্রকাশ করলে সবার সামনেই চড়াও হয়ে প্রধান শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মেরে গলায় ধাক্কা দিয়ে লাঞ্চিত করেন তিনি। আমরা তার কঠোর শাস্তির দাবি করছি।

ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক নুরুনবী চায়েন জানান, মোহন জোয়ার্দ্দার এই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে এসে তার নিজের জন্য একটি অষ্টম শ্রেণির পাসের সার্টিফিকেট নিতে আসেন। তিনি এই বিদ্যালয় থেকেই এসএসসি পাস করেছিলেন। খাতায় তার নাম রয়েছে আল-আমীন। কিন্তু তিনি মোহন জোয়ার্দ্দার নামে সার্টিফিকেট নিতে চান। নামের মিল না থাকায় সার্টিফিকেট দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে চড়-থাপ্পড় মেরে গলা ধাক্কা দেয়। সেই সাথে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি শামসুন্নাহার শেফালী আরেফিনকে জানিয়েছি। আমি তার বিচার চাই।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা মোহন জোয়ার্দ্দার বলেন, আমি ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলাম। পড়াশোনাও করেছি ওই প্রতিষ্ঠানে।

এসএসসি পাসের সার্টিফিকেট হারিয়ে যাওয়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অষ্টম শ্রেণির পাসের সার্টিফিকেট নিতে গেলে এমন ঘটনা ঘটে। তবে প্রধান শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুন্নাহার শেফালী আরেফিন বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। এটা খুবই দুঃখজনক। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মিরপুর থানার ওসি রাশেদুল আলম বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত