ঢাকা, বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯ আপডেট : ১১ মিনিট আগে
শিরোনাম

পোশাকশ্রমিক হত্যার সাড়ে ৩ বছর পর রহস্য উদঘাটন

  গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:১৯

পোশাকশ্রমিক হত্যার সাড়ে ৩ বছর পর রহস্য উদঘাটন
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুরে ‘আপদ’ দূর করতে পোশাকশ্রমিক সাবিনাকে (২০) খুন করা হয়েছে। হত্যার পর শরীরের কাপড় দিয়ে সিমেন্টের পিলারের সঙ্গে লাশ বেঁধে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে দেয় হত্যাকারীরা। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার সাড়ে ৩ বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শুক্রবার দুপুরে গাজীপুর পিবিআই’র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। পোশাক কর্মী সাবিনা ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার জোকা গ্রামের লাল মিয়ার মেয়ে।

গ্রেপ্তারকৃত তুলা মিয়া (২৪) একই উপজেলার দর্শা মোড়ল বাড়ি এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। বৃহষ্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা এলাকা থেকে তুলা মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মাকছুদের রহমান বলেন, সাবিনা গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সূর্য নারায়ণপুর গ্রামে তার খালা, খালু ও নানির সঙ্গে ভাড়া বাসায় থেকে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। গত ২০১৯ সালের ২৫ জুন নতুন বাসা খোঁজার উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হন সাবিনা। এর দুদিন পর ২৭ জুন শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী বাজারের রহম আলীর পুকুর থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের খালা ফুলেমা খাতুন সাথী বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটি শ্রীপুর থানা ও শিল্প পুলিশ-০২ প্রায় ৪ মাস তদন্ত করে। তারা কোনও রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেয়। গ্রেফতার তুলা মিয়া নিজেকে জড়িয়ে খুনের এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের নাম উল্লেখ করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্লু-লেস এ ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার তুলা মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, পোশাককর্মী সাবিনা মোট চারটি বিয়ে করেছেন। তার এক ছেলে রয়েছে। তার চলাফেরা ভালো ছিল না। সে বেপরোয়া চলাফেরা করতো। এই নিয়ে সাবিনার সঙ্গে তার খালু সুজন চিল্লা-পাল্লা করতো। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন সুজন ও তার পরিবার।

পিবিআই গাজীপুরের এসপি জানান, ২০১৯ সালের ২৫ জুন এক বন্ধুর সঙ্গে বেরিয়ে রাতে বাসায় ফেরেন সাবিনা। দেরি করে ফেরায় তাকে তার খালু সুজনের বাবা গালমন্দ করেন। এ সময় সাবিনা উত্তেজিত হয়ে তার খালুর বৃদ্ধ বাবাকে চড় মারে। এ ঘটনায় সাবিনাকে লাঠি দিয়ে মারপিট করে হাত ভেঙে দেয় খালু। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে খালুর বিরুদ্ধে থানায় মামলার হুমকি দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে চলে যায়। মধ্যরাত পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় সাবিনাকে ফিরিয়ে আনতে একই বাড়ির অপর ভাড়াটিয়া তুলা মিয়াসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীপুর থানার রাজাবাড়ি বাজার এলাকায় যান সুজন।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, সাবিনা বাসায় ফিরতে অস্বীকৃতি জানালে কৌশলে তাকে সেখান থেকে নিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা হন সুজন ও তার সহযোগীরা। পথে শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী বাজারের পেছনে রহম আলীর পুকুর পাড়ের নির্জন স্থানে সাবিনাকে নিয়ে যায় তারা। সেখানে নিয়ে সাবিনার তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে নিহতের শরীরের কাপড় দিয়ে সিমেন্টের পিলারের সঙ্গে লাশ বেঁধে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান হত্যাকারীরা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত