ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ আপডেট : ২ মিনিট আগে
শিরোনাম

রিজার্ভ ফের ২৯ বিলিয়নের ঘরে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৩, ০৯:২১

রিজার্ভ ফের ২৯ বিলিয়নের ঘরে
রিজার্ভ ফের কমেছে । ছবি: সংগৃহীত

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দফা রিজার্ভ গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নামল। ডলার সংকট সামাল দিতে রিজার্ভ থেকে ধারাবাহিকভাবে ডলার ছাড়ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে আবারও রিজার্ভ কমে ২৯ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ৮ মে দেশের রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে এসেছিল। যেটা গত ৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থান। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) পেমেন্ট দেওয়ায় রিজার্ভ নেমেছিল ৩০ বিলিয়ন এর নিচে। গত ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়েছিল।

তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৪ মে) দিনশেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারে। একমাস আগে (৩০ এপ্রিল) রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২২ সালের ২৪ মে রিজার্ভ ছিল ৪২ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার।

কোন দেশের তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর রিজার্ভ থাকলে সেটা কোন বিপদ সংকেত দেয় না। তবে আমাদের রিজার্ভ কম ছিল এখন বাড়ছে, সাথে আমদানির দায়ও কমছে। আমাদের রিজার্ভ দিয়ে ছয় মাসের আমদানির দায় মেটানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আমদানির দায় মেটাতে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন পড়ছে প্রতি মাসে। সে হিসাবে আমাদের রিজার্ভ দিয়ে ৫ মাসের বেশি সময়ের আমদানির দায় মেটানো সম্ভব। সে হিসেবে দেশের বর্তমান রিজার্ভকে কোন অবস্থায় খারাপ অবস্থা বলা যাবে না।

অন্যদিকে, আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে আশা জাগাচ্ছে রেমিট্যান্স। চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে এসেছে ১১২ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি এক ডলার ১০৮ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ১২ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২০ সালে করোনা শুরু হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত বাড়তে থাকে। ওই সময় অধিকাংশ প্রবাসী আয় বৈধ পথে দেশে আসে। আবার আমদানিও কমে যায়। ফলে রিজার্ভ বেড়ে ২০২১ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়।

এরপর ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ে। ফলে দেশের বাড়ে আমদানি খরচও বেড়ে যায়। তবে সেই তুলনায় বাড়েনি রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়। এই কারণে আমদানি দায় মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে প্রতিনিয়ত ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে। এর ফলে দেশের রিজার্ভ কমতে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণত সরকারি এলসির দায় মেটাতে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করে। চলতি অর্থবছর এরই মধ্যে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। গত অর্থবছর বিক্রি করা হয় ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। এলসি খোলায় কড়াকড়ি, ডলার না পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে অনেকে এখন কম দর দেখিয়ে আমদানি করছে। এর প্রভাবে গত মার্চ পর্যন্ত আমদানি কমেছে ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অবশ্য একই সময় পর্যন্ত রপ্তানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত