ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ আপডেট : ১৪ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

ছিনিয়ে নেয়া জঙ্গিরা দেশেই আছে: সিটিটিসি প্রধান

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৩, ২২:০৫

ছিনিয়ে নেয়া জঙ্গিরা দেশেই আছে: সিটিটিসি প্রধান
ফাইল ছবি

পুরান ঢাকার সিএমএম আদালত চত্বর থেকে গত বছরের ২০ নভেম্বর সাজাপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয় আনসার আল ইসলামের সদস্যরা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল চারজন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয়া। জঙ্গি ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান ও অতিরিক্তি কমিশনার আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ছিনিয়ে নেয়া জঙ্গিদের পালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই, তারা দেশেই আছে।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে সিটিটিসি প্রধান এসব তথ্য জানান।

আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা আশাবাদী দুই পলাতক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো। একজন সাধারণ অপরাধীর সঙ্গে জঙ্গিদের কোনোভাবেই এক করা যাবে না। এ ধরনের শীর্ষ ও ভয়ঙ্কর জঙ্গিদের আদালতসহ যেকোনো জায়গায় আনা নেয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেয়া দরকার ছিল। সেটি অবশ্যই ঘাটতি ছিল। পরে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা দ্বিতীয়টি ঘটানোর শক্তি সামর্থ্য জঙ্গি সংগঠনের নেই বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জঙ্গি অভিযান কিছুটা ভাটা পড়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিটিটিসি জঙ্গি বিরোধী ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের জন্য ডেডিকেটেড। আমাদের সেই অভিযান চলমান। গত মাসেও সিলেটের মৌলভীবভাজারে বড় পাহাড়ে দুটি অভিযান চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিংবা নির্বাচনের কারণে জঙ্গি অভিযান ভাটা পড়বে না।

তিনি জানান, জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জেলখানা ও বাইরের মূল সমন্বয়ক পলাতক জঙ্গি আবু সিদ্দিক সোহলের স্ত্রী শিখাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ গত মাসে ঢাকার পার্শ্ববর্তী সাভারে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অভিযানের দুইতিনদিন আগে পলাতক জঙ্গি আবু সিদ্দিক সোহল আস্তানা ত্যাগ করে। ডা. বখতিয়ার নামে একজন আশ্রয় দিয়েছিলেন তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া কিংবা ইমাম মাহমুদের কাফেলার জঙ্গিরা বিভিন্নভাবে পুনঃসংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করেছিল। সিটিটিসির তৎপরতায় জঙ্গিদের সব তৎপরতাকে নস্যাৎ করে দেয়া হয়েছে। আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া যেভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিল এটা বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের একটা বিরল ঘটনা। তাদের সব সদস্যদের সশস্ত্র প্রশিক্ষিত করে তুলবে-এমন পরিকল্পনা ইতিপূর্বে হয়নি। ঠিক তাদের মতো করতে চেয়েছিল জঙ্গি সংগঠন ইমাম মাহমুদের কাফেলা।

সিটিটিসি প্রধান আরও বলেন, আগের মতোই অফলাইন ও অনলাইনে আমাদের সার্ভেলেন্স (নজরদারি) আছে। অনেকেই বলে থাকেন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে জঙ্গিরা মাথাচারা দেয়ার চেষ্টা করতে পারে কিনা। এটা খুবই স্বাভাবিক। জঙ্গি সংগঠনগুলো এমন পরিস্থিতির সুযোগ নেয়। বিভিন্ন দেশে নজিরও রয়েছে। আমাদের দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলো এই সময়ে রি-অরগানাইজ করার চেষ্টা করেছে বিভিন্ন ফর্মে।

বাংলাদেশ জার্নাল/সুজন/এসএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত