ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ আপডেট : ৮ মিনিট আগে
শিরোনাম

কোটাবিরোধী আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী, চরম ভোগান্তি 

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৪, ১৮:২৮  
আপডেট :
 ১০ জুলাই ২০২৪, ১৮:৪৪

কোটাবিরোধী আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী, চরম ভোগান্তি 
কোটাব্যবস্থা বাতিল করে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মোড় অবরোধ করায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত

২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মোড় অবরোধ করায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী।

বুধবার (১০ জুলাই) সকাল থেকেই রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা। ফলে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

এদিকে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ইস্যুতে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের ওপর আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী হাসনাত বলেছেন, আমাদের দাবি মানতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই। সন্ধ্যা ৭টায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বুধবার (১০ জুলাই) সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের ওপর চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা দেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এ সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করতে বলেন আদালত। আগামী ৭ আগস্ট এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

তবে আদালতের এই আদেশে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত আসার পর রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা প্রতিক্রিয়া জানান।

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকা। ফলে নগরজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

রাজধানীর কারওয়ানবাজার সার্ক ফোয়ারার মোড় আটকে রেখেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।এতে ফার্মগেট, বাংলামোটর, মগবাজার, পান্থপথ রোডে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা দুপুর পৌনে ১২টায় শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। এ সময় ওই এলাকায় আটকা পড়ে অনেক যানবাহন। যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

গুলিস্তান জিরোপয়েন্ট মোড় ও পল্টন মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। গুলিস্তান মোড়ে শিক্ষার্থীরা চারপাশে বৃত্তাকার হয়ে বসে পড়েছেন। শিক্ষার্থীরা দখলে নিয়েছেন পল্টন মোড়ও। যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, শ্যামপুর, জুরাইন, পুরান ঢাকার লোকজন ঢাকার অন্য অংশের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই জিরোপয়েন্ট মোড় ব্যবহার করেন।

আগারগাঁও মোড়ের চারটি রাস্তা বন্ধ করে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফলে জরুরি প্রয়োজনে হেঁটে ও গলিপথ ধরে রিকশায় যাতায়াত করছেন পথচারীরা।

আন্দোলনে মহাখালী থেকে বনানী পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ। যানবাহন না চলার কারণে অনেকে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন। অনেকে যানজটে দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে রয়েছেন আশপাশের রাস্তায়।

জরুরি কাজ ছাড়া আজ সকাল থেকে রাজধানীতে সড়কে বের হননি অনেকেই। এ কারণে বেশির ভাগ সড়ক রয়েছে অনেকটা ফাঁকা। কোথাও কোনো সিগন্যাল ছাড়া পার হতে পারছে যানবাহন। সড়কে বাসসহ অন্যান্য যানবাহনের সংখ্যাও কম চলাচল করতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমপি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত