ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ আপডেট : ৫ মিনিট আগে
শিরোনাম

কুড়িগ্রামে ফের পানি বাড়ছে, অসহনীয় কষ্ট বানভাসিদের

  কুড়িগ্রাম

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৪, ১২:৫৮

কুড়িগ্রামে ফের পানি বাড়ছে, অসহনীয় কষ্ট বানভাসিদের
কুড়িগ্রামে ফের পানি বাড়ছে, অসহনীয় কষ্ট বানভাসিদের। ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পানি ফের বাড়তে শুরু করেছে। ফলে জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৯ উপজেলার ৫৫টি ইউনিয়নের প্রায় সোয়া দুই লাখেরও বেশি মানুষ।

এদিকে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি আর গবাদিপশুর খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। নেই জ্বালানী ফলে রান্নার চুলা জ্বলছে না। জেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকলে তা অপ্রতুল। আর গো-খাদ্য সংকট নিয়ে দুঃশ্চিন্তা আছে বানভাসিরা।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাফসান জানান, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার নদের ৫টি পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৯টার দেয়া তথ্য অনুসারে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি হাতিয়া পয়েন্টে ৩২ সে.মি., চিলমারী পয়েন্টে ৩৪ ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৪৯ পয়েন্টে, ধরলা নদীর পানি ৮ সে.মি. এবং দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমা সীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ১০ দিন ধরে জেলার ৯ উপজেলার দুই লক্ষাধীক পানিবন্দি মানুষের দূর্ভোগের শেষ নেই। রাস্তা ঘাট তলিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। চলতি বন্যায় নাগেশ্বরী উপজেলার দুটি বাঁধের দুই স্থানে ভেঙে যাওয়ায় ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

চর দ্বীপ চর ও নিম্নাঞ্চলের মানুষের ঘরে চাল ডাল থাকার পরেও জ্বালানির সংকটে রান্না করে খেতে পারছে না। ফলে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম বেঁচে আছেন এই বানভাসি মানুষগুলো। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পরিবারের লোক জন উঁচু স্থানে অবস্থান করছে। উপায় না পেয়ে অনেকের নৌকার ভিতর রাত কাটাতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের রলাকাটা গ্রামের আজগার আলী বলেন, টানা ১০ দিন ধরে ঘরে বাইরে পানি। মাঁচার ওপর ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। কাজ কামাই নাই, হাতে টাকা নেই, খাওয়ার-থাকার কষ্ট, চরম কষ্ট প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যাওয়া বিশেষ করে নারী ও বৃদ্ধ সদস্যদের নিয়ে। নানামুখী সমস্যা আর দুর্ভোগে কি করি কোথায় যাই।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার বলেন, জেলার বন্যা কবলিতদের জন্য এখন পর্যন্ত ৫৪২ মেট্রিক টন চাল, ৩২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও ২৩ হাজার ১২০ প্যাকেট শুকনো খাবার ৯ উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। আর গো খাদ্যের কোনো বরাদ্দ নেই।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত