বিধিবহির্ভূতভাবে ছাঁটাই করা হলে মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: শ্রমসচিব
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৫, ১৬:৫৩ আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৫, ১৭:২৯

শ্রমসচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান টিএনজেডের এক শ্রেণির শ্রমিকদের বৈঠকে না এসে সমাবেশ করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কিছু শ্রমিকের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে এবং বিধিবহির্ভূতভাবে ছাঁটাই করলে মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত মঙ্গলবার তৈরি পোশাক খাতের ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (আরএমজি-টিসিসি) এর ২০তম সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠক ডাকার পেছনে কারণ ব্যাখ্যা করে শ্রমসচিব জানান, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী ঈদের পর শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার সময় বড় ধরনের ছাঁটাই হতে পারে, যা নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করবে। এজন্য এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়, তবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গত সোমবার টিএনজেডের শ্রমিকরা কারখানার কাছে সমাবেশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে শ্রমসচিব বলেন, "তারা কেন মঙ্গলবার বৈঠকে না এসে সেখানে সমাবেশ করছেন? মনে হচ্ছে, আবারও তারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছেন। যখন আলোচনা চলছে, তখন আরেক দল বিআরটিসির ডাবল ডেকার বাসে এসে শ্রম ভবনের সামনে বসে আছেন।" তিনি আরও বলেন, "এটা খুব সরলভাবে দেখলে চলবে না, এখানে অনেক কিছুই রয়েছে।"
শ্রমসচিব দাবি করেন, একটি পক্ষ চাচ্ছে না যে কারখানাগুলো চলুক এবং তারা পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের দিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করছে। এমন কাজকে তিনি দেশের শত্রুতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়া, ছাঁটাইয়ের জন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং যেকোনো বিধিবহির্ভূত ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, "অনেক শ্রমিকনেতা উসকানি দিচ্ছেন, এবং আমরা তাদের শনাক্ত করেছি। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি আরও বলেন, "বিক্ষোভের অধিকার রয়েছে, তবে রাস্তা দখল করার অধিকার কাউকে দেওয়া হবে না। যারা রাস্তা আটকে রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
শ্রমসচিব জানান, টিএনজেডের মালিককে দুই দফায় টাকা দেওয়া হলেও তারা বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। নভেম্বরে ১৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল, বর্তমানে ১৭ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে এবং কোরবানির ঈদের সময় আরও ১৫ কোটি টাকা বকেয়া হবে। এই পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যাবে না, এজন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে টিএনজেডের চারটি কারখানা বন্ধ করার। এসব কারখানায় প্রায় ৩,২০০ শ্রমিক কর্মরত।
তিনি আরও জানান, টিএনজেডের মালিককে দেশে ফিরতে সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট জারি করা হবে, কারণ তার ওপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি টিএনজেডের সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করেছে, এবং তাদের সম্পদ মূল্যায়ন করে শ্রমিকদের পাওনা নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ জার্নাল/এজেএইচ










