জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি: বাড়বে কি মূল্যস্ফীতি?
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৩

ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ সংকটের মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার তাতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কিনা তা ‘সময়ের ওপর’ ছেড়ে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মূল্যস্ফীতির বিষয়টিকে চাহিদা ও সরবরাহনির্ভর বিষয় হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “বাড়তে পারে, আবার নাও বাড়তে পারে। এটা সময়ের ওপর নির্ভর করে।”
আইএমএফ-বিশ্ব ব্যাংকের বসন্তকালীন সভায় অংশগ্রহণের পর দেশে ফিরে রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হন অর্থমন্ত্রী।
আগের দিন শনিবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। চার ধরনের তেলের নতুন দর লিটারপ্রতি আগের চেয়ে সর্বনিম্ন ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয় যা সে দিন মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে।
ডিজেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫ এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা।
এতে করে লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা (আগের দর ১০০ টাকা), অকটেন বেড়েছে ২০ টাকা (আগের দর ১২০), পেট্রোল বেড়েছে ১৯ টাকা (আগের দর ১১৬) এবং কেরোসিন বেড়েছে ১৮ টাকা (আগের দর ১১২)।
দেশের ফিরে অর্থন্ত্রী এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মুখে পড়েন।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরেও ‘মূল্যস্ফীতি নাও বাড়তে পারে’ বলে তিনি যে দাবি করেছেন, তার ভিত্তি কী?
জবাবে মন্ত্রী বলেন, “এটা চাহিদা ও সরবরাহের একটা ব্যাপার আছে। আমরা যদি সরবরাহ ঠিকমতো রাখি...তেলের মজুদ কিন্তু আমরা ঠিক রাখছি। আমরা যদি সরবরাহ ঠিকমতো রাখি, এই যে সাময়িক যতটুকু বেড়েছে, এটার সাথে সাথে আরো অনেকগুলো ইস্যু আছে।
“তেলের দাম একা তো মূল্যস্ফীতি বাড়ায় না। এটা একটা মূল কথা। খালি তেলের দামের জন্য কি মূল্যস্ফীতি বাড়বে?”
এর সঙ্গে তো সব খাত সম্পৃক্ত। সাংবাদিকের এ কথার জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আরে ভাই, আপনি বাস্কেটের মধ্যে তেলের দাম যদি সবকিছু হিসাব করেন, খাদ্যসহ সবকিছু মিলে, এটা খুব একটা সামান্য।”
বেশ কয়েক মাস ধরে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম প্রায়ই একই রকম ছিল। সবশেষ এপ্রিলেও তা অপরিবর্তিত রাখা হয়। আর এর আগের কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সমন্বয় করতে বাড়ানো বা কমানো হলেও তা এক দুই টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার চড়তে থাকার কারণে এবার এক লাফে তা ১০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হল।
ভর্তুকি কমাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের অন্যতম একটি শর্ত ছিল জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাজারভিত্তিক করা।
আইএমএফের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হল কিনা?
আমির খসরু বলেন, “এটা কিন্তু আইএমএফের শর্তের কারণে বাড়ানো হয়নি। এটা তো আমাদের ‘অটোমেটিক প্রাইসিং’ এর দিকে আমরা যাচ্ছি।
“আমাদের যে পলিসি, সেই পলিসির ভিত্তিতেই তেলের দামটা বাড়ানো হয়েছে। এটার সাথে আইএমএফের শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই। এবং আপনারা জানেন যে, বিশ্ববাজারেও তেলের দাম এখন অনেক বেশি। সুতরাং আমাদের সেই সমন্বয়টা করতে হয়েছে। এবং এটা একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়েছে। এখানে কিন্তু লুকোচুরির কিছু নেই।”
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম











