গ্যাস সংকটে ৫ সার কারখানা বন্ধ,
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৩৩

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গ্যাস সংকটে দেশে সচল সাতটি সার কারখানার মধ্যে অন্তত পাঁচটি এখন বন্ধ আছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের তিনটি কারখানাও রয়েছে। এসব কারখানা বন্ধ থাকায় সারের দাম বৃদ্ধি, সারের ঘাটতি তৈরির ফলে কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও সরকার বিকল্প উৎস থেকে সার আমদানির চেষ্টা করছে।
গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে বন্ধ থাকা তিন কারখানা হলো- চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল), কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) এবং ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। সিইউএফএল ও কাফকোর প্রধান কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাস। গ্যাস থেকে মিথেন সংগ্রহ করে প্রথমে অ্যামোনিয়া এবং পরে ইউরিয়া উৎপাদন করা হয়। এই দুই কারখানা থেকে প্রাপ্ত অ্যামোনিয়া দিয়ে ডিএপি সার উৎপাদিত হয়। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সিইউএফএলের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১, ১০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া ও আট শ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। পুরোনো এই কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটিতে ভুগছিল। এর মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় গত ৪ মার্চ থেকে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত তুলনামূলক আধুনিক কাফকোর দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ১, ৫০০-১, ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া ও ১, ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। এই কারখানাটিও গ্যাস সংকটে গত ৪ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ডিএপি সার কারখানা দেশের একমাত্র ফসফেট সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এই কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ৮শ মেট্রিক টন। এই কারখানার মূল কাঁচামাল অ্যামোনিয়া, যা সিইউএফএল ও কাফকো থেকে সংগ্রহ করা হয়। ওই দুটি কারখানা বন্ধ হওয়ায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কারখানাটি গত ১৯ এপ্রিল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সিইউএফএলের বাণিজ্যিক বিভাগের এজিএম কামরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্যাস না থাকলে কোনোভাবে কারখানা চালু রাখার সুযোগ নেই। আবার সরবরাহ ও গ্যাসের চাপ কম হলেও পর্যাপ্ত উৎপাদন সম্ভব নয়। এ কারণে বাধ্য হয়ে কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারখানা চালু করা যাবে না।’ ডিএপি সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া না পেলেও আগের মজুতকৃত অ্যামোনিয়া দিয়ে ডিএপির উৎপাদন সচল ছিল। তবে ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় মজুতকৃত অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে গেলে বাধ্য হয়ে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস আমদানি করা যাচ্ছে না। আবার দেশীয় উৎস থেকেও গ্যাসের ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না। দেশে যে পরিমাণ গ্যাস আছে, সেখানে আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতের চাহিদা মিটিয়ে সর্বশেষ সার কারখানায় দেওয়া হয়। এ কারণে সরাসরি এসব কারখানায় প্রভাব পড়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম










