ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ অাপডেট : ১১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:০২

প্রিন্ট

ঠাকুরগাঁওয়ে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার

ঠাকুরগাঁওয়ে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। এসব সেন্টারে রোগীর রোগ নির্নয়ের চেয়ে ডাক্তারদের চেম্বার বেশি লক্ষ করা যায়। ডাক্তারের চেম্বারের জন্য যেন এসকল সেন্টার তৈরি করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার ঘুরে দেখা যায়, রোগ নির্নয়ের সকল যন্ত্র থাকলেও নেই কোন টেকনিশিয়ান। শুধু বিভিন্ন রুমে ডাক্তারের চেম্বার করে সেগুলোতে রোগী দেখার ব্যবস্থা করা হয় এবং ডাক্তার রোগী কেবিন ভিন্ন ভিন্ন টেস্ট এরলিস্ট ধরিয়ে দেয়।

কিন্তু টেস্ট করানোর জন্য আবার এক এক যায়গায় এক এক রকম টাকা নেওয়া হয়। টেস্ট করানোর নামে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় কাড়ি কাড়ি টাকা। তারপরও অনেকসময় টেষ্টগুলো সঠিক হয়না। ফলে রোগীকে ভুল চিকিৎসার কারণে বিপদে পড়তে হয়।

ঠাকুরগাঁও ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার সমিতির সূত্র মতে ঠাকুরগাঁও সদরে আছে প্রায় ৩৫টি ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার। কিন্তু এর বিপরীতে টেস্ট করানোর জন্য দক্ষ কোন টেকনিশিয়ান তো নেই আবার নেই কোন ডাক্তার। নামে মাত্র ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার। ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ান আবশ্যক হলেও তা খুব কম ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও শহরে সাধারণত, আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, আরবিএস, সিবিসি, সিরামকিটিনিন সহ বিভিন্ন টেস্ট গুলা করানো যায়। কিন্তু এসকল টেস্ট করানোর জন্য অভিজ্ঞ ডাক্তার ঠাকুরগাঁওয়ে নেই। কেবল ৮-৯ জন ডাক্তার আছেন যারা এসকল টেস্ট করান। তাও তারা আবার সবসময় থাকেন না। আর ভুল রিপোর্ট তো প্রতিনিয়তই দেওয়া হয় রোগীকে।

ঠাকুরগাঁও শহরের টিকা পাড়া বাসিন্দা এস এম মহসীন জানান, আমার ভাগনি গর্ভবতী। রাত ৭ টায় খুব ব্যাথা হওয়ায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে নিয়ে যাই। কিন্তু কোন ডায়াগষ্টিক সেন্টারে ডাক্তার পেলাম না। অবশেষে সারারাত ভাগনিকে নিয়ে অনেক চিন্তায় ছিলাম কি হয়।

আরেক ভুক্তভোগী তারেক হাসান জানান, আমার শ্বশুড় কিছুদিন আগে পেট ব্যাথায় ভুগতে ছিল। পরে ডাক্তার দেখানো হলে ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন। আলট্রাসনোগ্রাম করানো হলে যে ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রাম করে তিনি বলেন এ রোগীর তো গোলব্লাডার নেই। রোগী আর বাঁচবে না। পরে রংপুর নিয়ে আবার টেস্ট করালে আমার শ্বশুরের কোন সমস্যাই ধরা পরে নাই।

ঠাকুরগাঁও ক্লিনিক ও ডায়াগনিষ্টক সেন্টার সমিতির সভাপতি ও এহিয়া ক্লিনিকের মালিক হাবিব হোসেন জানান, যদি কোন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ডিপ্লোমা টেনিশিয়ান না থাকে তাহলে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিলে আমরা প্রশাসনকে সহযোগীতা করবো।

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন আবু মো. খায়রুল কবির বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, আমরা মাসে একবার করে প্রত্যেক ডায়াগনষ্টিক সেন্টার পরিদর্শন করি। কোন সেন্টারে ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ান না থাকলে আমরা সেসব ডায়াগনষ্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেব।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত