ঢাকা, শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ অাপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:১৭

প্রিন্ট

এখানেও সেলফি!

এখানেও সেলফি!
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির মনোনয়ন বিক্রির তৃতীয় দিনেও ছিল নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ। বুধবার ঘড়ির কাঁটায় সময় তখন প্রায় দুপুর পৌনে ১টা। হঠাৎ করেই দৃশ্যপট পরির্বতন হয়ে যায় সরগরম নয়াপল্টনে। বিএনপি অফিসের সামনে সড়ক বন্ধ করে জোড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের সরাতে যায় পুলিশ। তাকে বাঁধ সাধে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

পুলিশ নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের ওপর চড়াও হয় নেতাকর্মীরা। পুলিশ লাঠিচার্জ করলে বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা কয়েকজন পুলিশের ওপর হামলা চালায়। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৭০-৮০ রাউন্ড টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ছুঁড়ে। থেমে থেমে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে এই সংঘর্ষ। এসময় পুশিলের দুটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। কিছু মোটরসাইকেল, গাড়ি ভাঙচুরও করা হয়।

তবে এই সংঘর্ষের মাঝে বোরকা পরা এক সাহসী মহিলাকে সেলফি তুলতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে খু্বই স্বাচ্ছন্দের সাথে নিজের সেলফির সাথে পুড়ে যাওয়া গাড়ের ছবি তুলছেন তিনি। মহিলার কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন: এরা কারা?

এদিকে সংঘর্ষের এই ঘটনায় মহিলা দলের ঢাকা মহানগরের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদিকা নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলাম। আজকে সকাল থেকেই পুলিশ আমাদেরকে নানাভাবে উস্কানি দিয়ে আসছে। এমন অবস্থায় দুপুরের দিকে তারা হঠাৎ করেই আমাদের ওপর চড়াও হয়।’

মহিলা দলের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আহত মুকুল আক্তার কনা বলেন, ‘আমরা কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। পুলিশ বিনা উস্কানিতে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।’

পরিবেশ কিছুটা শান্ত হলে দুপুর ২টায় বিএনপি অফিসের নিচে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিনা উস্কানিতে সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশবাহিনী অতর্কিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

আপনারা মৌচাকে ঢিল মেরেছেন কেন? পুলিশ বাহিনীর কাছে এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আপনারা ভেবেছেন আমাদের শান্তিপূর্ণ এই মনোনয়ন ফরম বিক্রয় করার সময় হামলা চালিয়ে আমাদের স্বাভাবিক কাজ বন্ধ করবেন। সেটি আর হবে না। কোনও রক্তচক্ষুকে শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা ভয় করে না।’

এই আক্রমণ সরকারের নির্দেশে- এমন দাবি করে রিজভী নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সরকারের নির্দেশেই আমাদের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করেছে সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশ বাহিনী। আমাদের নেতাকর্মীদের গুলি করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ।’

এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশে নেতাকর্মীদের ফুটপাতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান রিজভী।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের উপর হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, বিনা উস্কানিতে পুলিশের উপর হামলা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র।

তিনি বলেন, তারা নির্বাচন পেছানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা করলেন, নিজেদের বীরত্ব দেখালেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আজ দুটি ধারায় বিভক্ত। একটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি। অন্যটি স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি। এরা সাম্প্রদায়িক অপশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এদের প্রধান লক্ষ্য দেশকে পাকিস্তানি ধারায় নিয়ে যাওয়া।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে আজ পুলিশের উপর হামলা হয়েছে। এতে পুলিশের ১৩ সদস্য আহত হয়েছে। নির্বাচন পেছানোর যড়ষড় হিসেবে তারা এ হামলা হয়েছে। ২০১৪ সালে নির্বাচন বানচালের জন্য তারা যা করেছিল, আজ আবারো তারা একই কাজ করলো। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে তারা নির্বাচন চাই না।

এছাড়া মতিঝিল বিভাগের ডিসি আনোয়ার হোসেন বলেন, বিনা উস্কানিতে পুলিশের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ শুধু তাদের রাস্তায় থেকে সরে যেতে বলেছিল, যেন যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু তারা এ কথা না শোনে হঠাৎ করে বিনা উস্কানিতে পুলিশের ওপর হামলা করে। পরে তারা আমাদের ২টা গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। আমাদের কয়েকজন সদস্যও এ ঘটনায় আহত হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পুলিশ ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় কাউকেই এখন পর্যন্ত আটক করা হয়নি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশের শান্তিপূর্ণ দায়িত্বপালনকালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হয়, কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় আমাদের ১৩ জন আহত হয়ে হাসপাতালে আছে। সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে ইস্যু তৈরির উদ্দেশ্যে তারা এ হামলা করে।

ছবি তুলেছেন বাংলাদেশ জার্নালের নিজস্ব আলোকচিত্রী মেহেদী হাসান রানা

বাংলাদেশ জার্নাল/আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত