ঢাকা, শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ অাপডেট : ২ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:৫১

প্রিন্ট

পেছাবে না ভোট, নামবে সেনা

পেছাবে না ভোট, নামবে সেনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দাবি করলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর পেছানোর কোনো পরিকল্পনা নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। আইনী ও সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় ৩০ ডিসেম্বরেই ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্তে অনড় নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক এই সংস্থাটি। তবে ঐক্যফ্রন্টের অপর একটি দাবি মেনে নিয়ে ভোটের আগে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। ভোটের ২/৩দিন আগেই ৩০০ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী এলাকায় সেনা সদস্যরা দায়িত্বে নিয়োজিত হবেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপিসহ তাদের জোট অনেক আগে থেকেই সংসদ নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েন করার দাবি জানিয়ে আসছে। অপরদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তার বিরোধীতা করে বলেছে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা সহ সেনা মোতায়েন করার কোন সুযোগ নেই। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে তারা দায়িত্বদ পালন করতে পারে। তবে ইসি এতোদিন বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়নি। নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি সেনাবাহিনী মোতায়েন করার বিষয়টি তাদের চিন্তার মধ্যে থাকার কথা এতদিন জানিয়ে এলেও সেনা নামানোর পরিকল্পনা নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রথম সরাসরি বক্তব্য এলো।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংসদ নির্বাচনের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, সংসদ নির্বাচনের ২ থেকে ৩ দিন অথবা ৭ থেকে ১০ দিন আগে নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনী যাবে। ওই সময় নির্বাচনী এলাকায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডও (বিজিবি) মোতায়েন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধ পরিকর। এজন্য সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইসি সচিব বলেন, কোথায় প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে সেটা এখন থেকে ঠিক করে রাখতে হবে। কোথায় থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হবে আর কোথায় থেকে নির্বাচনী মালামাল সরবরাহ করা হবে তাও এখনই ঠিক করে রাখতে হবে। বুধবার নয়া পল্টনে বিএনপি নেতা-কর্মীদের শোডাউনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে এসব বিষয়ে সর্তক থাকার নির্দেশ দেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, নির্বাচনী পোস্টার ব্যানার সরিয়ে ফেলাসহ মাঠের পরিবেশের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ইসি সচিব।

একই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বলেন, সাহসিকতার সঙ্গে সবাইকে কাজ করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা শিথিলতা দেখালে তার বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ সময় নির্বাচনের পরিবেশ ভালো থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই কমিশনার। এবারের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুখ দেখানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন মাহবুব তালুকদার। এসময় বলেন, কেউ নির্বাচনকে ভণ্ডুল করতে চাইলে আইনের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে নির্বাচন আর না পেছানোর কথা সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে অপর চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিংয়ে বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বের পর আর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ পেছানোর সুযোগ নেই। জানুয়ারিতে আইনি ও সাংবিধানিক কিছু বিষয় রয়েছে। ঐক্যফ্যন্টের দাবি চুলচেরা বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে ইসি এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর ভোটের পর কিছু আইনি ও সাংবিধানিক কাজের বিষয় রয়েছে। ভোটের গেজেট প্রকাশ, শূন্য আসনে উপনির্বাচন, স্থগিত হওয়া ভোটকেন্দ্রে তদন্ত, পুনঃভোট ও তার গেজেট প্রকাশ, সংসদ সদস্যদের শপথের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ রয়েছে। যথেষ্ট সময় নিয়ে এসব কাজ করতে হবে। এছাড়া, জানুয়ারির দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে রয়েছে বিশ্ব ইজতেমা। ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ ইজতেমায় জমায়েত হয়। সবকিছু বিবেচনা করে ৩০ ডিসেম্বরের পরে ভোট পেছানো যুক্তিযুক্ত ও বাস্তবসম্মত নয়। ফলে কমিশন মনে করছে, নির্বাচন পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই।

এর আগে, বুধবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধি দল ইসির সঙ্গে ভোট পেছানোসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে বৈঠক করেন। তারা ৩০ ডিসেম্বরের পর আরও তিন সপ্তাহ ভোট পেছানোর দাবি জানায়। এর পরপরই ইসির সঙ্গে বৈঠক করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। নির্বাচন যেন কোনোভাবেই পেছানো না হয়, সে দাবি ইসির কাছে জানায় তারা। ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখে অনড় থাকার সিদ্ধান্ত নেয়ার মাধ্যমে ইসি সরকারের দাবি মেনে নিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, কমিশন স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কমিশন নিজেরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। কমিশন অন্য কারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। তবে স্টেকহোল্ডার হিসেবে ইসি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর। এরপর ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে। প্রার্থীরা ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত