ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ৫ পৌষ ১৪২৫ অাপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৩

প্রিন্ট

আন্দোলন স্থগিত করল শিক্ষার্থীরা

আন্দোলন স্থগিত করল শিক্ষার্থীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় শুরু হওয়া আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শিক্ষক এবং গভর্নিং বডির সঙ্গে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেয়।

আন্দোলনকারী ছাত্রী আনুশকা রায়ের ভাষ্যমতে, ‘আমাদের দাবি প্রায় সবগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের ছয় দফার মধ্যে ১ ও ৫ দফা তদন্তের বিষয় স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। এগুলো মন্ত্রণালয় ও সরকারের ব্যাপার, তদন্তের ব্যাপার। তবে ২, ৩, ৪ ও ৬ দফা স্কুল কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে। এজন্য সময় দিতে হবে। আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি। কাল থেকে আমরা পরীক্ষায় অংশ নেব।’

আনুশকা রায়ের ভাষ্য, ‘আমাদের কোনো নির্দোষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী যাতে এই ঘটনায় হেনস্থা না হয় আমরা সেটা চাই। ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত চাই। দোষীরা যাতে বিচারের মুখোমুখি হয়।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বরখাস্ত শ্রেণিশিক্ষিকা হাসনা হেনাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন স্কুলটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার।

গোলাম আশরাফ বলেন, ‘আমাদের একজন শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে আমরা সহমর্মিতা প্রকাশ করছি, ক্ষমা চাচ্ছি।’ এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি বলব শিক্ষার্থীরা, তোমরা ক্লাসে ফিরে এসো’

এদিকে বুধবার গভর্নিং বডির সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান, শনিবার (৮ ডিসেম্বর) থেকে পূর্বনির্ধারিত রুটিনে পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থগিত হওয়া বুধবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার। আর বৃহস্পতিবারের পরীক্ষা হবে আগামী মঙ্গলবার।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ৬ দাবি

(১) অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং ৩০৫ ও ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধে তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

(২) প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে তাদের নিজস্ব আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্টের ওপর ভিত্তি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আলাদা যত্ন নিশ্চিত করতে হবে।

(৩) কোনোভাবেই কোনো শিক্ষক, শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ এবং অত্যাচার প্রয়োগ করতে পারবে না।

(৪) কথায়-কথায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি বন্ধ করতে হবে।

(৫) বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মরত সকলের মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মানসিক পরামর্শদাতা থাকতে হবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরামর্শদাতার প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে।

(৬) গভর্নিং বডির সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে এবং অরিত্রীর মা-বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য অধ্যক্ষ ও বিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশ্যে ক্ষমতা চাইতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে প্রাণ হারায় অরিত্রী। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় ‘আত্মহত্যার প্ররোচণাকারী’ হিসেবে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আখতার ও শ্রেণিশিক্ষিক হাসনা হেনার বিরুদ্ধে মামলা করেন অরিত্রীর বাবা।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close