ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৬ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:২৮

প্রিন্ট

বিদ্যুৎ সংযোগের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়

বিদ্যুৎ সংযোগের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়
শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মানুপাড়া গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি ইতিমধ্যে বিভিন্ন গ্রামবাসীর কাছ থেকে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা আদায় করেছে বলে জানা গেছে। তবে এ অভিযোগ নাকচ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনোরকম টাকা পয়সা ছাড়াই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেছেন অভিযুক্তরা।

জানা যায়, মানুপাড়া গ্রামের পূর্বপাড়া ছায়েদুলের বাড়ি থেকে আড়াখালী পর্যন্ত ৬০ জন গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ দিতে কাজ চলছে। শুরুতেই বিদ্যুতের সংযোগ পেতে ওইসব গ্রাহকদের কাছে টাকা দাবি করে ফিরোজ, শফিকুল, রফিক ও সালাম মাস্টার নামে স্থানীয় কয়েকজন।

তারা গ্রাহক প্রতি প্রথমে ৭ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে ৬ হাজার এবং শেষ পর্যন্ত ৪ হাজার ৫শ করে টাকায় রফা হয়। এই দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় ৬০ জন গ্রাহকের মধ্যে অনেকেই ৩ থেকে ৪ হাজার করে টাকা এ চক্রটির হাতে তুলে দিয়েছেন। অনেকের কাছ থেকে আবার ১০-১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এমনকি খুঁটির জন্যও ৪-৬ হাজার করে টাকা দাবি করেছে চক্রটি।

সূত্র মতে, গ্রাহক হওয়ার জন্য আবেদন ফি ১শ টাকা, ভ্যাট ১৫ টাকা ও মিটারের নিরাপত্তা বাবদ ৪শ টাকা মিলে সংযোগ ফি সর্বমোট ৫১৫ টাকা। বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি এক পয়েন্টের ওয়্যারিং করে দেয়া হয়, যার সর্বোচ্চ ব্যয় দাড়ায় মজুরিসহ ১২শ টাকা।

ওই গ্রামের গ্রাহক রুবেল মিয়া মিয়া (২২) জানান, স্থানীয় ফিরোজ মিয়া তার কাছ থেকে খুঁটি বাবদ ৪ হাজার ও ১টি মিটার ওয়্যারিংসহ ১০ হাজার টাকা মিলে মোট ১৪ হাজার টাকা নিয়েছেন।

একই গ্রামের গ্রাহক জামাল উদ্দিন (৫০) জানান, ফিরোজ মিয়া তার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়েছেন এবং আরও ৫ হাজার টাকা দাবি করেছেন।

আনোয়ার হোসেন (২৬) নামে আরেক গ্রামবাসী জানান, আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা দাবি করে বলা হয়েছিল। তারা তখন বলেছিলেন, ‘সকালে টাকা দিলে বিকেলে খুঁটি দেওয়া হবে।’ টাকা না দেয়ায় আমাকে খুঁটি দেওয়া হয়নি। আর যারা টাকা দিয়েছেন তাদের খুঁটি দেয়া হয়েছে।

এদিকে জাহাঙ্গীর নামে স্থানীয় এক যুবক অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় উল্লেখিত টাকা আদায়কারীরা পুলিশ দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ এনে উল্টো তাকে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

টাকা আদায়কারী ফিরোজ মিয়ার (৩৫) ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে নিজেকে ফিরোজ বলে স্বীকার করলেও সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নিজেকে নোয়াখালীর মোঃ আশিকুর রহমান খোকন বলে পরিচয় দেন।

আরেক টাকা আদায়কারী রফিক মিয়ার (৩৬) মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এলাকায় অনেকেই চেষ্টা করেছেন কিন্তু বিদ্যুৎ আনতে পারেন নাই। তাই আমি একটু এলাকার জন্য চেষ্টা করেছিলাম। এসময় তিনি প্রথমদিকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও নিজে কোনো টাকা নেননি বলে দাবি করেন।

অপর অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি নিয়মে টাকা আদায় করছি।

এ ব্যাপারে শেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মাসরুর হক খান বলেন, বিদ্যুতের সংযোগ পেতে বর্তমানে ৫১৫ টাকা খরচ হয়। আর ওয়্যারিংয়ের বিষয়টি গ্রাহকদের নিজস্ব ব্যাপার। এসময় তিনি কেউ অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকলে থানা পুলিশকে অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close