ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:১৯

প্রিন্ট

পোশাক শ্রমিকরা ফের রাজপথে

পোশাক শ্রমিকরা ফের রাজপথে
অনলাইন ডেস্ক

নতুন মজুরি কাঠামোর বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে পোশাক শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা ছয়দিন রাজধানীসহ, সাভার ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। একদিনের বিরতিতে আবার শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভে নেমেছেন পোশাক শ্রমিকরা।

অন্যদিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এসময় শ্রমিকরা যাত্রীবাহী বাসসহ ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে।

এদিন সকাল ১০ টার পর থেকে মিরপুরের শেওড়াপাড়া, মিরপুর-১৪, টোলারবাগ, দারুস সালাম, বাংলা কলেজের সামনে ও টেকনিক্যাল এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে আশেপাশের এলাকার গার্মেন্টস শ্রমিকরা।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও মিরপুর-১৪ এলাকায় শ্রমিকরা নেমে আসে। এর ফলে পুরো এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ বলেন, শেওড়া পাড়ায় শ্রমিকরা নামলেও কিছুক্ষণ পর তারা সরে যেতে রাজি হয়েছে। এখানকার পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। আশা করি তারা আজ আর নামবে না।

তবে মিরপুর-১৪ এলাকার রাস্তায় অবস্থান করে বিক্ষোভ করছে শ্রমিকরা। ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে, বাংলা কলেজ-টেকনিক্যাল মোড় এলাকার সড়কেও পোশাক শ্রমিকরা অবস্থান নিয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা একটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার ভাংচুর করেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে,দারুস সালাম থানা এলাকার এশিয়া সিনেমা হলের কাছে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন কয়েকটি পোশাক কারখানারা শ্রমিকরা।

তবে গত কয়েকদিনের আন্দোলনের দাবি নতুন মজুরি কাঠামোর বাস্তবায়ন থাকলেও আজ বেতন-ভাতার সমন্বয় ও ওই এলাকায় একটি কারাখানায় দুই পোশাক শ্রমিককে মারধর করা হয়েছে অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমেছেন শ্রমিকরা।

দারুস সালাম থানার ডিউটি অফিসার সাজ্জাদ বলেন, আশপাশের বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা অবস্থান নিলে পুরো সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বাড়তি সদস্য মোতায়েনসহ ঊর্দ্ধতনরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের জন্য সরকার ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করলেও মালিকপক্ষ তা দিচ্ছে না। এদিকে, মালিকপক্ষের কাছ থেকে বার বার আশ্বাস স্বত্ত্বেও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে তারা।

কয়েকজন পোশাক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, আমাদের যে এক মাসের মধ্যে সব ঠিক করে দেবেন এটা মিথ্যা আশ্বাস। এমন অনেক শুনেছি। তাই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তায় নামতেই থাকবো। আমাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করছে মালিকরা।

এদিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এসময় শ্রমিকরা যাত্রীবাহী বাসসহ ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়ার পরে ৯টার দিকে কারখানা থেকে বের হয়ে এসে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এসময় তারা দফায় দফায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে এবং যাত্রীবাহী বাসসহ ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে।

ঘটনা চলাকালে প্রায় এক ঘণ্টা ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ তাদের সরাতে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় ১০ শ্রমিক আহত হয়।

ঢাকা-১ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের এসপি সানা সামিনুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। ফের যেন তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করতে না পারে সেজন্য ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও ৮ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রাপ্য বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসার পর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মজুরি কাঠামো পুনর্মূল্যায়নে একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি গত বৃহস্পতিবার প্রথম সভাও করেছে।

পোশাক শ্রমিকদের জন্য গত বছর ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামোর সাতটি গ্রেডের মধ্যে যে তিনটি গ্রেড নিয়ে আপত্তি এসেছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে সমন্বয়ের আশ্বাস দিয়েছেন কমিটির প্রধান শ্রম সচিব আফরোজা খান।

শ্রমিকদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেছেন, কোনো শ্রমিকের বেতনই কমবে না।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close