ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ৪ মাঘ ১৪২৬ অাপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩২

প্রিন্ট

পুনরায় এমপি হতে আলোচনায় ফাতেমা

পুনরায় এমপি হতে আলোচনায় ফাতেমা
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারি ৭০ দশকের তুখোড় ছাত্রনেত্রী ফাতেমা জোহুরা রাণীকে পুনরায় সংরক্ষিত আসনে এমপি করার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবী উঠেছে। আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মী, পরোপকারী ও এলাকায় সুপরিচিত ফাতেমা জোহুরা রাণী সংরক্ষিত আসনে পুনরায় এমপি নির্বাচিত করা হলে ময়মনসিংহের অনেক উন্নয়ন হবে বলে আশাবাদী স্থানীয়রা।

ময়মনসিংহ শহরের নওমহল এলাকার বাসিন্দা ময়মনসিংহ শহর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি মরহুম ইঞ্জি. মো. আমিনুল ইসলাম তারা’র সহধর্মীনি ফাতেমা জোহুরা রাণী ১০ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি নির্বাচিত হয়।

জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে নামেন ফাতেমা জোহুরা রাণী। তিনি ছিলেন ৭০ দশকের তুখোড় ছাত্রনেত্রী। মুমিনুন্নিসা মহিলা সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ময়মনসিংহ পৌরসভা প্রথম মহিলা কমিশনারদের একজন। ১৯৯৭ সালে ময়মনসিংহ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০২ সালে ময়মনসিংহ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০৪ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

জোট সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় গিয়ে খোঁজ খবর রাখতেন ও নারীদের নিয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন এবং দলকে শক্তিশালী করতে তার উদ্যোগে প্রথম উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন হয়। ওয়ান ইলিভেনের জরুরি অবস্থার সময় জননেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হলে তার মুক্তির জন্য গণ স্বাক্ষর সংগ্রহ করাতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন তিনি। এছাড়াও তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর ও মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে কাজ করেছেন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি অগাধ আস্থা রেখে দলের জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মূলত আওয়ামী লীগের সকল লড়াই সংগ্রামে তিনি ছিলেন রাজপথে।

ফাতেমা জোহুরা রাণী ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরে তার দায়িত্ব পরে ময়মনসিংহ জেলার। ফলে তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে উঠান বৈঠক সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। মূলত (ময়মনসিংহ-৪) সদর আসনে এমপি বিরোধী দল নেত্রী রওশন এরশাদ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ময়মনসিংহে অনুপস্থিত থাকতো। ফলে অনেক প্রয়োজনীয় কাজ সংসদ সদস্যের উপস্থিতি ও স্বাক্ষর প্রয়োজন হতো, যা নারী সংসদ সদস্য ফাতেমা জোহুরা রাণী সবসময় এলাকায় থাকার কারণে বিষয়গুলো নিয়ে জটিলতা কম হয়েছে। সংরক্ষিত আসনের ক্ষমতা সীমিত থাকার পরও তিনি তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ময়মনসিংহে সদর, ত্রিশাল ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ২০টির মত বিদ্যালয়ে নতুন ভবন তৈরি ও ৪৫টি বিদ্যালয় স্থাপন করেছেন। ময়মনসিংহ সদর ও ত্রিশালে ৬টি শেখ রাসেল আইটি স্থাপন, জেলায় ২০০ টিরও বেশি মসজিদ ও মন্দিরের অবকাঠামো উন্নয়ন, ৬০০ বেশি স্থানে সোলার স্থাপন, জেলায় ৬৫ কিমি পাকা রাস্তা, কাচা ১০২ কিমি রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ, নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি জন্য সেলাই মেশিন বিতরণসহ আরো অনেক কাজ করেছেন তিনি।

এছাড়াও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া (ময়মনসিংহ-৭) ত্রিশালের এম.পি এম এ হান্নান এর অনুপস্থিতে ২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ত্রিশালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্বে পালন করেন তিনি।

ফাতেমা জোহুরা রাণী বলেন, দল ও এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য সব সময় নিজেকে নিয়োজিত রেখে কাজ করে যাচ্ছি। সংরক্ষিত আসনে কাকে এমপি নির্বাচিত করবেন, সেটা আমাদের দলের নেত্রী বুঝবেন। তবে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি আবারো এমপি হলেও এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজ করব এবং না হলেও করব ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘নারী হয়েও জনমানুষের জন্য কাজ করা যায় তা প্রমাণ করতেই আমি রাজনীতিতে এসেছি। জাতির বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রারিণত আমাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ব্যাপক উৎসাহ যোগায়। জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নযাত্রায় শামিল হয়ে নারীর অধিকারসহ সকল স্তরের জনগণের কল্যাণের জন্যই আমার পথচলা। সে লক্ষ্যকে আরো প্রসারিত করতে আমি পুনরায় সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। আশা করি নেত্রী আমাকে মূল্যায়ন করবেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close