ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৬ অাপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪০

প্রিন্ট

মরদেহ আটকে টাকা দাবি, ৩৯ দিন পর ফিরলো দেশে!

মরদেহ আটকে টাকা দাবি, ৩৯ দিন পর ফিরলো দেশে!
দালাল ময়না মিয়া
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী এক বাংলাদেশীর মৃতদেহ নানা কৌশলে আটকে রাখেন আরেক বাংলাদেশী প্রবাসী ময়না মিয়া। একপর্যায়ে তিনি (ময়না) মরদেহ দেশে পাঠানোর কথা বলে নিহত আজিজের স্বজনদের কাছে মোটা অংকের টাকা চেয়ে বসেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শারজায় বসবাসকারী বাংলাদেশি ও দুবাই কনসাল জেনারেলের উদ্যোগে ৩৯ দিন পর গত বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) আজিজের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। পর দিন ১১ জানুয়ারি সকাল ১১টায় জানাজার নামাজ শেষে মৃতদেহ কবরস্ত করা হয়।

আবদুল আজিজ (৫০) নামের এক বাংলাদেশি শ্রমিক গত বছরের (২০১৮) ২ ডিসেম্বর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজার একটি হাসপাতালে মারা যান। তার বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পাট্রাই গ্রামে। এ সময় ময়না মিয়া (৪০) নামের আরেক বাংলাদেশি নানা কৌশলে তার (আজিজ) মরদেহ আটকে রাখেন। ময়নার এবং মৃত আজিজের বাড়ি একই এলাকায়।

তবে প্রতারক ময়না মিয়া দুবাই কনসাল জেনারেলের কাছে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে লিখিত মুচলেকা দেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আজিজ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে শারজায় ছিলেন। ২ ডিসেম্বর ময়না স্বজনদের মুঠোফোনে তার মৃত্যু সংবাদটি জানান। পরে ময়না আবারো ফোনে বলেন, আজিজের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যাপারে তিনি চেষ্টা তদবির চালাচ্ছেন। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ পড়বে। ওই টাকা না দিলে মরদেহ পাঠানো সম্ভব হবে না। তিনি স্বজনদের কাছে ওই টাকার ব্যবস্থা করে রাখতে বলেন। এ অবস্থায় তারা উৎকণ্ঠায় পড়ে যান। স্বজনেরা বিভিন্নভাবে শারজায় বসবাসকারী কয়েক জন বাংলাদেশির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাদের পরামর্শে দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের কাছে লিখিত আবেদন পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ জানুয়ারি (২০১৯) কনসাল জেনারেল ইকবাল হোসেন খাঁন ময়নাকে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন।

এ সময় বাংলাদেশি বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের কয়েক জন নেতাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে ময়না প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি লিখিত মুচলেকা দেন। পরে কনসাল জেনারেলের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে আজিজের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। প্রতারণার বিষয়ে ময়নার দেয়া লিখিত মুচলেকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

কনসাল জেনারেল উদ্যোগ না নিলে মরদেহ আসতে হয়তো আরো বিলম্ব হতো জানিয়ে কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ রহমান আতিক বলেন, ‘আজিজ ও ময়নার বাড়ি একাই গ্রামে এবং পাশাপাশি। ময়না মিয়ার এ কাজটা মোটেই সমীচীন হয়নি। এ আচরণে আমরা খুবই ব্যথিত। ময়নার মতো লোকেরাই বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেন।’

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close