ঢাকা, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬ অাপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৪৮

প্রিন্ট

পুলিশকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো নুসরাত হত্যার ২ আসামি

জেলখানা থেকে হুকুম পেয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন
ফেনী প্রতিনিধি

মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত ও অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও শাহদাত হোসেন শামিম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

রোববার বিকাল ২টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত ১টা পর্যন্ত প্রায় ১০ ঘন্টা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

পরে রাত ১টা ৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশান (পিবিআই) এর স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন এন্ড অপারেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহেরুল হক চৌহান এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

এসময় তিনি বলেন, পিবিআই এ মামলার দায়িত্ব পাওয়ার চার দিনের মধ্যে (১০-১৪ এপ্রিল) ঘটনার মূল নায়ক যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আইনের মধ্যে থেকে বিজ্ঞ আদালতের কাছে তাদের হাজির করেছেন।

আদালত দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সিআরপিসির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। আসামিদ্বয় স্বতস্পূর্তভাবে বিজ্ঞ আদালতের কাছে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

আসামিদ্বয় পুরো বিষয় খোলাসা করেছেন। হত্যাকাণ্ডটি কারা ঘটিয়েছে, কিভাবে ঘটিয়েছে, কি প্রক্রিয়ায় ঘটিয়েছে বিস্তারিত বলেছেন কিন্তু তা মামলার তদন্তের স্বার্থে সাংবাদিকদের সামনে পেশ করবো না।

তিনি আরো বলেন, আসামিরা অপরাধ স্বীকার করেছেন, তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তারা জেলখানা (সিরাজ উদ দৌলা) থেকে হুকুম পেয়েছেন।

তাহেরুল হক চৌহান আরো বলেন এখনো পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ১৩ জনের নাম এসেছে। এছাড়াও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু নাম এসেছে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবো।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত যে চারজন তাদের সকলকে আমরা গ্রেপ্তার করতে পারিনি। দুইজন গ্রেপ্তার আছে, বাকি দুইজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। যেকোন সময় আপনাদের একটি ভালো খবর দিতে পারবো।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ ভালুকা থেকে নুর উদ্দিন ও পরদিন শুক্রবার সকালে মুক্তাগাছা থেকে শাহাদাত হোসেন শামিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নুর উদ্দিন নুসরাত হত্যা মামলার ২নং ও শাহাদাত হোসেন শামিম ৩নং আসামি।

সোনাগাজীর চাঞ্চল্যকর নুসরাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয় আসামি এবং এজাহারবহির্ভূত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১১জন আসামি রিমান্ডে।

গত বুধবার রাত ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/টিপিবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close