ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬ অাপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ১৫:৫২

প্রিন্ট

গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতনে গর্ভপাত

গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতনে গর্ভপাত
শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুরের নকলা পৌর শহরের কায়দা এলাকায় অন্তঃস্বত্ত্বা এক গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের করা হয়েছে। এতে ওই নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্যাতিত গৃহবধূ ডলি খানম (২২) নকলা পৌর শহরের কায়দা এলাকার কৃষক শফিউল্লাহর স্ত্রী। তিনি স্থানীয় চন্দ্রকোনা কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে নির্যাতন করা হয়।

এক মাস আগে এই ঘটনা ঘটলেও ওই গৃহবধূর স্বামী গত ৩ জুন শেরপুরের আমলি আদালতে তার ভাই আবু সালেহসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনকে আসামি করে একটি নালিশি মামলা করেছেন।

আদালতের বিচারিক হাকিম শরীফুল ইসলাম খান ভিকটিমের এমসি তলব (ডাক্তারি পরীক্ষার সনদ) সাপেক্ষে ঘটনার বিষয়ে তদন্তপূর্বক ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জামালপুর পিবিআইয়ের ওসি’র প্রতি নির্দেশ প্রদান করেছেন।

জানা যায়, গত ১০ মে সকালে স্থানীয় আবু সালেহ ও তার লোকজন জোরপূর্বব গোরস্থান সংলগ্ন শফিউল্লাহর দখলীয় জমির ধান কাটতে শুরু করে। এসময় তিনি বাধা দিলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে ধাওয়া দেয়। এক পর্যায়ে শফিউল্লাহ নকলা থানায় ছুটে যান। এসময় তার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ডলি খানম (২২) ধান কাটতে বাধা দিলে, আবু সালেহর নির্দেশে তার ছোটভাই সলিমউল্লাহ, ভাইয়ের স্ত্রী লাখী আক্তারসহ কয়েকজন তার চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিয়ে টেনে-হেঁচড়ে জমির পাশের একটি ইউক্যালিপটাস গাছের সঙ্গে হাত বেঁধে ফেলে। অন্য গাছের সঙ্গে বাঁধে তার দুই পা। এরপর ওই নারীর গোপনাঙ্গসহ পেট, বুক ও পিঠে উপুর্যপরি কিল-ঘুষি-লাথি মারতে থাকে। সেইসঙ্গে ওই নির্যাতনের ভিডিও (চিত্র) ধারণ করে লাকি আক্তার।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার এবং আবু সালেহ ও তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লাখী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

কিন্তু চিকিৎসার কথা বলে ডলি খানমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর পর প্রভাবশালীদের তদবিরে ছাড়া পেয়ে যান আটককৃতরা।

এদিকে, নির্যাতনে ডলি খানমের রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তাকে ১৬ মে পর্যন্ত সাতদিন স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়ার পরও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ২২ মে পর্যন্ত সাতদিন চলে তার চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, নির্যাতনের কারণে ডলি খানমের অকাল গর্ভপাত হয়েছে।

নির্যাতিতা গৃহবধূর স্বামী শফিউল্লাহ বলেন, থানা পুলিশের এসআই ওমর ফারুক মহিলা কনস্টেবলসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ডলি খানমকে উদ্ধারের পরও কোনো প্রতিকার পাইনি। এমন বর্বর নির্যাতনের পরও তারা আজ বুক ফুলিয়ে ঘুরছে। আর আমি অসহায়।

এ বিষয়ে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভাই-ভাইদের মধ্যে বিরোধ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে দুপক্ষকেই শান্ত করা হয়েছিল। গৃহবধূকে নির্যাতনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে জামালপুর পিবিআইয়ের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রাণী সরকার বলেন, মামলাটি এখনও হাতে পাইনি। পেলে অবশ্যই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close