ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ১৬:৩৯

প্রিন্ট

রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি, আতঙ্কে পথচারীরা

রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি, আতঙ্কে পথচারীরা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

রাস্তার পিচ ঢালাইয়ের কাজ প্রায় শেষের দিকে কিশোরগঞ্জের নিকলী ও করিমগঞ্জ উপজেলা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংযোগ সড়কের। কিন্তু ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার (নিকলী-করিমগঞ্জ) এ সংযোগ সড়কের মাঝখানে পল্লী বিদ্যুতের ১৩ খুঁটি রয়েই গেছে! এ কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। তখন কাঁচামাটির রাস্তা ছিল। হাওরে পল্লী বিদ্যুতায়ন শুরু হলে উপজেলার কারপাশা, বদলপুর, গৌরীপুর, শান্তিপুর, সহরমুল, জালালপুর ও নানশ্রী গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য রাস্তার পাশে খুঁটি স্থাপন করা হয়। সড়কটি যখন পাকা করার জন্য দ্বিগুণ প্রশস্ত করা হয়। তখন বিদ্যুতের খুঁটি সড়কের মাঝখানে পড়ে যায়। কিন্তু সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে নিকলী অংশের প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং (পিচ ঢালাই) কাজ শেষ করে ফেলেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এদিকে নানা জটিলতায় করিমগঞ্জ অংশের প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের কাজ মন্থর গতিতে চলছে। এ অংশে এখনো ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়নি বলে জানা গেছে।

এ সড়কে নিকলী উপজেলার অনেক এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনে করে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। মাস সাতেক আগে এ সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হলেও আজও এসব পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। এতে করে দিনের বেলায় সড়কে কিছু দুর্ঘটনা ঘটলেও রাতের বেলায় উপজেলার বাইরে থেকে আসা অনিয়মিত যানবাহনগুলো এসব বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, খুঁটিগুলো না সরানোর ফলে ঝুঁকি নিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল করছে। এতে করে দিন দিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েই চলছে। দ্রুত খুঁটিগুলো সরানোর দাবি জানান তারা।

কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মনির উদ্দিন মজুমদারের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, সড়কের মাঝখানে যে খুঁটিগুলো রয়েছে তা সরিয়ে নেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ঠিকাদারের লোকজন ইতিমধ্যে নতুন খুঁটি বসানোর কাজ শুরু করেছে। সড়কের মধ্যস্থল থেকে এসব খুঁটি সরিয়ে কিছু দিনের মধ্যেই নতুন খুঁটিতে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ দেয়া হবে।

এ বিষয়ে এলজিইডির নিকলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান মুহিম জানান, অনেক সময় অতিবাহিত করে কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অনুকূলে খুঁটি স্থানান্তর ব্যয়বাবদ ১২ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যয়বাবদ টাকা জমা দেয়ার পরেও খুঁটিগুলো সরিয়ে নেয়নি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

এ দুর্গম হাওর জনপদের এ সড়ক দিয়ে নিকলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের লোকজন কিশোরগঞ্জ জেলা সদরসহ করিমগঞ্জ, তাড়াইল উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে থাকেন। ফলে এটি হাওর উপজেলার মানুষদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত