ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬ অাপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৯, ১০:৩১

প্রিন্ট

শিশু নির্যাতনকারীকে সিগারেটের ছ্যাঁকা

শিশু নির্যাতনকারীকে সিগারেটের ছ্যাঁকা
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় সিয়াম (৭) নামের এক শিশুকে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয়ার অভিযোগে মনির নামের এক যুবককে একই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তের পরিরবারের দাবি, সালিশ বৈঠকে শাস্তি দেয়ার পরও মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে মনিরকে।

গত ২ জুলাই উপজেলার কবুতরখোলা গ্রামের সালিশের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সিয়াম লৌহজং উপজেলার মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়নের যশলদিয়া গ্রামের অজিত শেখের ছেলে এবং নূরবাগ ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্র। আর মনির একই গ্রামের আমির ঢালীর ছেলে।

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি– তদন্ত) জাহাঙ্গীর হোসেন খান বলেন, অভিযোগ পেয়ে মনিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে সালিশের ব্যাপার আমাদের জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, ২ জুলাই সকালে নিজ বাড়ির আঙিনায় খেলা করছিল সিয়াম। এর কিছুক্ষণ পর তার আর কোনও খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। পরে বাড়ির পাশের জঙ্গলে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া গেলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সিয়ামের পরিবারের অভিযোগ, আইসক্রিম কিনে দেওয়ার কথা বলে সিয়ামকে ডেকে নিয়ে যায় মনির ও হান্নান। পরে তারা তাকে সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকা দেয়। এতে সিয়াম অজ্ঞান হয়ে যায়।

এ ঘটনায় ৩ জুলাই রাতে সিয়ামের মা রহিমা বেগম বাদী হয়ে লৌহজং থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। পরে মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৫ জুলাই দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সিয়ামের পরিবার জানায়, আইসক্রিম দেওয়ার কথা বলে সিয়ামকে ডেকে নিয়ে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়েছে মনির। এ ঘটনায় মামলা করলে পুলিশ মনিরকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারেও পাঠানো হয়।

এদিকে, মনিরের ভাই মো. আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, এক শিশুকে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগে কালাম মেম্বারের (মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার) নেতৃত্বে সালিশে আমার ভাইকে অভিযুক্ত করে ২০টি বেতের বাড়ি মারা হয় এবং ছয়বার সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, সালিশে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও তিনদিনের মধ্যে গ্রাম ছাড়তে বলা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই বিচার মেনে নিয়ে চলে আসার পর আবার মামলা দিয়ে আমার ভাইকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, যারা সালিশে এ শাস্তি দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো অবস্থা আমাদের নেই। তবে যেহেতু একবার মনিরকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, এবার তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করলে আমরা খুবই উপকৃত হই।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য কালাম মেম্বারের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ জার্নাল/জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close