ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ১৯:১৫

প্রিন্ট

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দশ বছরে সীমান্তে ২৯৪ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ

দশ বছরে সীমান্তে ২৯৪ বাংলাদেশিকে হত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ১০ বছরে (২০০৯-২০১৮) সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে ২৯৪ জন হত্যার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তবে আগের তুলনায় সীমান্তে হত্যা অনেকটা কমে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোটে ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, ২০০৯ সাল থেকে গত ১০ বছরে সীমান্তে বিএসএফের হাতে ২৯৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ২০০৯ সালে ৬৬ জন, ২০১০ সালে ৫৫ জন, ২০১১ সালে ২৪ জন, ২০১২ সালে ২৪ জন, ২০১৩ সালে ১৮ জন, ২০১৪ সালে ২৪ জন, ২০১৫ সালে ৩৮ জন, ২০১৬ সালে ২৫ জন, ২০১৭ সালে ১৭ জন, ২০১৮ সালে ৩ জনের মৃত্যুর হিসাব দেওয়া হয় সংসদে।

নিহতের সংখ্যা ২০১৮ সালে ৩ জনে কমে আসার বিষয়টি তুলে ধরে আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় অনেকটা কমে এসেছে।

সীমান্তে হত্যা বন্ধে বিজিবি ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সরকারও কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সীমান্তে সমন্বিত টহল কার্যক্রম নেত্রকোনা-৩ আসনের অসীম কুমার উকিলের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে যেসব স্থানে সমন্বিত টহল কার্যক্রমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। এক বিওপি (সীমান্ত ফাঁড়ি) থেকে পার্শ্ববর্তী বিওপির মধ্যবর্তী দূরত্ব কমানোর জন্য ১২৮টি বর্ডার সেন্ট্রি পোস্ট (বিএসপি) নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া বিএসএফ সীমান্তের ৩১৮ কিলোমিটার এলাকাকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে আধুনিক ক্যামেরাসহ নজরদারির ব্যবস্থা করছে।

৩২৮ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন এলাকায় ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩২টি বাহিনীর প্রধানসহ ৩২৮ জন জলদস্যু ও বনদস্যু ৪৬২টি অস্ত্র, ২২ হাজার ৫০৪টি গোলাবারুদ ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ র‌্যবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

১৪ বছরে ১০৫০ পুলিশ সদস্য নিহত ফেনী-২ আসনের নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০০৬ সাল থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন অবস্থায় ১ হাজার ৫০ জন পুলিশ নিহত ও ৪ হাজার ৪৪০ জন আহত হয়েছেন।

বেগম লুৎফুন নেসা খানের প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যে মই রয়েছে তার মাধ্যমে ২০ তলা পর্যন্ত আগুন নেভানো ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।

মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ১,১৯,৮৭৮ মামলা বিএনপির হারুনুর রশীদের অপর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ সব সংস্থা ২০১৮ সালে ১ লাখ ৬১ হাজার ৩২৩ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৭৮টি মামলা দায়ের করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কর্তৃক কোনও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি।

পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ চট্টগ্রাম-৪ আসনের দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে (২০০৯-২০১৮ পর্যন্ত) বিজিবি সীমানায় টহল ও অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকার অন্তর্মুখী মাদক ও চোরাচালান দ্রব্য এবং ৬৯৮ কোটি টাকার বহির্মুখী চোরাচালান দ্রব্য আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এ সময়ে বিজিবি ৫৭টি রিভলবার, ৪৮৩টি পিস্তল, ৪০২টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৫ লাখ ৩০ হাজার ৪৪৩ বোতল ফেন্সিডিল, ১ লাখ ৫৪ হাজার ১০৯ কেজি গাঁজা, ১৬ লাখ ১১ হাজার ২৪২ বোতল বিদেশি মদ, ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৮ লিটার দেশি মদ, ৩ লাখ ৫ হাজার ৫৫৯ বোতল বিয়ার, ৩৬৭ কেজি হেরোইন, ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩ লাখ ৮৫ হাজার ১৫৬টি নেশার ইনজেকশন, ৩.০৭ কেজি আফিম, ৮.০৫৫ কেজি কোকেন আটক করেছে। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার সময় ৩ হাজার ৮৫৫ জন নারী, ১ হাজার ৫৯১টি শিশু উদ্ধার এবং ১০৮ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত