ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৯, ২২:২৯

প্রিন্ট

সন্তান প্রসবের মাত্র ১৮ দিন আগে স্ত্রীকে হত্যা!

সন্তান প্রসবের মাত্র ১৮ দিন আগে স্ত্রীকে হত্যা!
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে সন্তান প্রসবের মাত্র ১৮ দিন আগে গর্ভবতী স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মোশারফ হোসেন মুসা (৩৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এসময় গর্ভে থাকা সন্তানেরও মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার সময় উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের মেছনী পিয়াজুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধু রুনা আক্তার (২৫) উপজেলার ধনতলা গ্রামের হুসেন আলীর কন্যা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ হত্যাকাণ্ডকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে গৃহবধুর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এমনকি কাউকে না জানিয়ে দ্রুত মরদেহকে গোসল করে দাফনের ব্যবস্থা করা, এমনকি গ্রাম্য মোড়লদের নিয়ে বিষয়টি ৫ লাখ টাকায় দফারফা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মেয়ের মৃত্যুতে মা সামশুন নিহার জানান, ছয় বছর আগে ছয় লাখ টাকা যৌতুক দিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের মেছনী পিয়াজুপাড়া গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলের মোশারফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে দেন তার মেয়ের।

তিনি বলেন, বিয়ের পর মোটরসাইকেল যৌতুক চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংসারে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই ছিল। পারিবারিক ও স্থানীয় ভাবে একাধিকবার বিচার-সালিশও হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেয়েটাকে আমার মেরেই ফেলল।

মেয়ের বাবা হুসেন আলী জানান, সকালে স্থানীয় মোড়লরা আমাকে চাপ প্রয়োগ করে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বিয়ষটি মীমাংসার চেষ্টা করে। আমি চাপে পড়ে লাশ দাফন করতে সম্মতি দিই। কিন্তু পরে এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে বাড়ি-ঘর ছেড়ে জামাই ও তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়।

পাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান বলেন, গৃহবধুর ছোট একটা ৩ বছরের মেয়ে রয়েছে। সেই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এক বিঘা জমি মেয়ের নামে লিখে দেওয়ার শর্তে একটা মীমাংসার প্রস্তাব ছিল দুই পরিবারের পক্ষ থেকে। এখন সেটা আর হচ্ছে না। আইনি প্রক্রিয়ায় সবকিছু হবে। গৃহবধুর স্বামী যদি অপরাধ করে, তাহলে শাস্তি পাবে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোসাব্বেরুল হক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, দাফনের জন্য গোসল করানো শেষ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত গৃহবধুর পরিবারের লোকজন কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। গৃহবধুর লাশ নিয়ে আসার সময় গৃহবধুর শ্বশুর বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ আসার খবর শুনে তারা পালিয়ে যায়।

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
close
close