ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৬:০১

প্রিন্ট

কাল টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

কাল টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তাদের আগমনকে কেন্দ্র করে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এরইমধ্যে শেষ হয়েছে জাতির জনকের সমাধি সৌধের পরিচ্ছন্নতার কাজ। মূলস্তম্ভ, বঙ্গবন্ধু ভবন, মুক্তমঞ্চ, সংগ্রহশালা, বকুলতলা চত্বর সাজানো হয়েছে নানা রঙে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নিয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

শুধু দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরাই নয় ১৫ আগস্ট শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন, নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান খান জানান, টুঙ্গিপাড়ায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়াসহ গোপালগঞ্জে তিনস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, ডিবি পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। এর মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে, বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে মুকসুদপুর থেকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চরগোবরা এবং ঘোনাপাড়া থেকে টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধু সমাধিস্থল পর্যন্ত অন্তত পাঁচ শতাধিক স্থানে কালো-কাপড়ে মোড়া তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বাসা-বাড়িতেও কালো-কাপড়ের পতাকা টাঙানো হয়েছে। পুরো জেলায় এখন শোকাবহ আভা বিরাজ করছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান জানিয়েছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে পুরো জেলা জুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। সড়ক-মহাসড়কের কালো কাপড় দিয়ে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে স্ব-উদ্যোগে কাঙালী ভোজ অনুষ্ঠিত হবে।

১৫ আগস্ট, বাঙালি জাতির শোকের দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ৪৪ বছর আগে এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল ক্ষমতালোভী নরপিশাচ কুচক্রী মহল।

বঙ্গবন্ধু ছাড়াও ১৫ আগস্ট রাতে ধানমণ্ডির বাড়িতে তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তার জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাকে ও তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় রেন্টু খানকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং নিকটাত্মীয়সহ ২৬ জনকে ওই রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় তারা প্রাণে বেঁচে যান।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত