ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ২০:৪১

প্রিন্ট

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে বাঘিয়ার খাল ও হিজল গাছ

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে বাঘিয়ার খাল ও হিজল গাছ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

কিছু মানুষের মৃত্যু নেই, তারা অমর। হাজার বছর বেঁচে থাকেন মানুষের হৃদয়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাদেরই একজন। তার জন্ম না হলে পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান পেত না লাল সবুজের স্বাধীন বাংলাদেশ।

তবে তাঁকে বাঁচতে দেয়নি ঘাতকের বুলেট। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সপরিবারে। সেই থেকে ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির শোকের দিন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর বাড়ির একেবারেই পাশ ঘেঁষে প্রবাহিত হয়েছে বাঘিয়ার খাল। এ খালেই সাঁতার কাটতেন তিনি। শৈশব-কৈশোরে এ খালেই ডুব-সাঁতারে ঝড় তুলতেন বঙ্গবন্ধু।

ছোট হলেও বেশ পরিপাটি করে রাখা খালের দুইপাশ। দুইপাড় সবুজে ভরা। ব্লক দিয়ে পিচিং করে শাসন করা হয়েছে খালটি। বঙ্গবন্ধুর বাড়ির পার্শ্ববর্তী পাড় বাঁধাই করা। শান বাঁধানো ঘাট করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ধরে রাখতেই।

আজ বঙ্গবন্ধু নেই, আছে তার সেই প্রিয় ঘাট পাড়। আছে সেই হিজল গাছ। ঘাটের দুইপাশে তাল গাছ। ঘাটে হিজল গাছটি এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে। হিজল গাছটি ঠিক যেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকথার সাক্ষী হয়ে আছে। আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আজও ডুকরে কাঁদছে প্রিয় মানুষটির জন্য।

ঘাট পাড়ে লেখা ‘এই তো- সেই হিজলতলা। যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা বাল্যকালে গোসল করতেন’।

শুধু বঙ্গবন্ধুই নয় এ খালে (বর্তমানে বাঁধানো ঘাট) তার বড় কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ছোট কন্যা শেখ রেহানাও গোসল করতেন ছোট বেলায়। সাঁতার আর ডুব সাঁতার কাটতেন তারা।

বঙ্গবন্ধুপ্রেমীরা প্রতিদিনই জায়গাটি পরিদর্শনে আসেন। তাদের পদচারনায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখরিত থাকে এ স্থানটি।

কথা হলো জামাল উদ্দিন নামের এক দর্শনার্থীর সঙ্গে। বাবা, মা, ভাই বোন ও স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঢাকার আসাদগেট থেকে এসেছেন তিনি।

তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থাপতি বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি, কিন্তু টুঙ্গিপাড়ায় তার অনেক স্মৃতি রয়েছে। তাই এখানে এসে বঙ্গবন্ধুর পৈতৃক নিবাস, ছেলেবেলার খেলার মাঠ, বঙ্গবন্ধুর প্রিয় বালিশা আমগাছ, হিজলতলাসহ বিভিন্ন স্মৃতি ঘুরে ঘুরে দেখছি। যতই দেখছি ততই অন্যরকম একটা অনুভূতি উপলব্ধি করছি।

বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য ও টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র শেখ আহমেদ হোসেন মীর্জা জানান, বঙ্গবন্ধু শৈশব ও কৈশরে তার সমবয়সীদের নিয়ে এ খালে গোসল করতেন। এমনকি পরিণত বয়সে তিনি গ্রামে আসলেও এ ঘাটেই গোসল করতেন।

বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানাও বাল্যকালে এ ঘাটে গোসল করতেন, সাঁতার কাটতেন। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি আর পদচিহ্ন ধরে রাখার জন্য বাঘিয়ার খাল পাড় ও হিজল গাছের চারপাশ বাঁধাই করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ ঘাটে মিশে আছে জাতির জনকের নানা স্মৃতিকথা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
close
close