ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৪৮

প্রিন্ট

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশেই ময়লার ভাগাড়

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশেই ময়লার ভাগাড়
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশ পথের খালে ফেলে রাখা বর্জ্য একাকার হয়ে আছে। পরিত্যক্ত জুতা-সেন্ডেল, প্লাস্টিক বোতল, নারিকেলের খোসা। খাবার পরিবেশনের পরে খালি প্যাকেট। এমনকি পুরনো, জীর্ণ কাঁথা-বালিশ পর্যন্ত খালটিতে ফেলা হয়েছে। এ সব বর্জ্যে গিজ গিজ করছে। পানি দেখা যায় না। চোখে পড়ে শুধু বর্জ্য। যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

কেউ কেউ বলছেন বর্জ্যের প্রদর্শনী এখন এ খালটি। বিভিন্ন রঙের খালি প্লাস্টিক বোতল থাকায় অনেকটা বর্ণিল দেখা যায়। কলাপাড়া পৌর শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কের পাশেই এ খালটির অবস্থান। কেউ কেউ রহমতপুরের খালের একাংশ বলে থাকেন। খালটির দুই দিকে চলছে ভরাট ও দখল। বর্তমানে পরিত্যক্ত বর্জ্যে এককার হয়ে আছে। পানির রং নিকষ কালো।

কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব গ্রামে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ময়লার স্তুপ ও নিচু জায়গায় জমে থাকা পানি এবং রোগীদের ব্যবহৃত শৌচাগারের দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নানা রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এছাড়া ঘটছে মশার বিস্তার।

সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালটির সামনে রোগীদের জন্য ওয়াল ঘেঁষে ড্রেন সংলগ্ন যে টিউবওয়েলটি বসানো হয়েছে। তার গোড়ায় রয়েছে জমানো পানি ও চারপাশে জমেছে বর্জ্যরে পাহাড়। অন্যদিকে হাসপাতালের গেটের সামনের জায়গাটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে। এ সব জমানো পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ব্যাপকহারে মশার বিস্তার ঘটাচ্ছে।

এই হাসপাতালে ভর্তি রোগীকে দেখতে আসা উপজেলার উত্তর কায়েতপাড়া এলাকার সমীর সরকার জানান, শুধু হাসপাতালের ভিতরেই নয়, বাইরে দেখেন ড্রেন, চত্বর করিডোর সবখানে নোংরা পরিবেশ। এছাড়া ওয়ার্ড গুলোতে শৌচাগারের দুর্গন্ধে থাকা যায় না। তারপরও বাধ্য হয়ে এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নানা রোগে আক্রান্ত রোগীদের এখানে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আরেক জন দর্শনার্থী আনাস রহমান জানান, এমন অবস্থা চলতে থাকলে এই হাসপাতাল ২টি ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার বংশ বৃদ্ধি এবং অন্যতম লালন ক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হাসপাতালের ডা. মো. ফয়সাল আহমেদ জানান, হাসপাতালের সামনের খালটির ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে মন্ত্রী মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিচ্ছন্নতা কর্মী না থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কিছুটা ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের পাশেই ময়লার ভাগাড়।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সামনেই ময়লার স্তুপ। এ ময়লার স্তুপ থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এছাড়া পাশেই ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি জমে আছে। এতে করে এখানে এডিস মশার জন্মা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ময়লা স্তুপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধের কারণে সাধারণ মানুষকেও মুখে কাপড় গুজে রাখতে হয়।

আশপাশের মুদি মনোহরী দোকান, হোটেল ও বাড়ি ঘরের ময়লা আবর্জনা এখানে এসে ফেলা হয়। ফলে এ দুর্গদ্ধের সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা যায়। এ সকল ময়লা আবর্জনা পঁচে দুর্গন্ধ ও নানা রকম রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে। ময়লা-আবর্জনার ময়লার দুর্গন্ধে সুস্থ্য মানুষও অসুস্থ্য হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। প্রসূতি মায়েদের জন্য এখানে থাকার ব্যবস্থা থাকলেও পচাঁ ময়লার দুর্গন্ধের জন্য তারা থাকতে পারেনা।

পূর্বগ্রাম এলাকার শাহজালাল বলেন, আমরা সাধারণ দরিদ্র মানুষ। হাজার হাজার টাকা খরচ করে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সামর্থ্য নেই বলেই এখানে চিকিৎসা নিতে আসি। এখানে ডাক্তার দেখালে ঔষধ বাইরে থেকেই কিনতে হয়। তাদের সরকারি ঔষধ দেওয়ার কথা বললে তারা বলে সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ঔষধের ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির পাশেই রয়েছে ময়লা আবর্জনার স্তুপ। ময়লার গন্ধে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া উপক্রম হয়ে যায়।

লিপি আক্তার বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কেন্দ্রে গেলে পাশের ময়লা আবর্জনার জন্য দুর্গন্ধে বসা যায় না। এতে করে আমাদের মতো রোগীরা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কেন্দ্রের পাশ থেকে ময়লা আবর্জনা সরানো হলে রোগীরা উপকৃত হবে।

এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) ডাঃ সাহনিন সুলতানা বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের ময়লা আবর্জনার ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। তারা ব্যবস্থা গ্রহন করার আশ্বাস দিয়েছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলার বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত