ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:৪৯

প্রিন্ট

ময়মনসিংহে পাটের নতুন সম্ভাবনা

ময়মনসিংহে পাটের নতুন সম্ভাবনা
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে ময়মনসিংহ বিভাগ বিভাগকে পলিথিনমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তাই নিত্য ব্যবহার্য্য পলিথিনের বিকল্প খুঁজছে সাধারণ মানুষ। ফলে একদিকে পলিথিনের বিকল্প, অন্যদিকে প্রয়োজনের তাগিদে ময়মনসিংহে পাটের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এক সময় বৃহত্তর ময়মনসিংহ পাট চাষের জন্যে বিখ্যাত ছিলো। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাট পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো গেলে সোনালী আঁশ খ্যাত পাট চাষে ময়মনসিংহের হারোনো গৌরব আবারো ফিরিয়ে আনা যাবে।

বাংলাদেশে একটা সময় ছিল যখন বাজারে গেলে মানুষজন হাতে করে একটা পাটের তৈরি চটের ব্যাগ নিয়ে যেতো। কিন্তু আশির দশকে বাজারে পলিথিনের ব্যবহার শুরুর ফলে চটের ব্যাগ তথা পাটদ্রব্যের ব্যবহার একদমই কমে যায়।

এই পলিথিনের ব্যবহার পরিবেশের জন্য এতটাই বিপর্যয় ডেকে আনে যে, সরকার বাধ্য হয়ে ২০০২ সাল থেকে এর উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ ও ব্যবহারকে আইন করে নিষিদ্ধ করে। ফলে কিছুদিন পলিথিনের ব্যবহার কিছুটা কম ছিলো। কিন্তু এই আইন প্রয়োগের শিথিলতার কারণে আবারো ব্যাপকভাবে দেশজুড়ে পলিথিনের ব্যবহার শুরু হয়।

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পলিথিন ও প্লাস্টিক এমন একটি পদার্থ যার আয়ুষ্কাল কয়েক হাজার বছর। যা মাটিতে গেলে ক্ষয় হয় না বা মাটির সাথে মেশে না। এটি মাটিতে পানি ও প্রাকৃতিক যে পুষ্টি উপাদান রয়েছে তার চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে। যার ফলে মাটির গুণগত মান হ্রাস পায়। এছাড়াও মাটিতে প্লাস্টিকের টক্সিক রাসায়নিক পদার্থ গাছে মিশে যাচ্ছে। যা পশু পাখি ও মানুষের শরীরেও এসে পৌছায়। ফলে মানুষের শরীরে অনেক মরণব্যাধিসহ ক্যান্সার হয়ে থাকে।

পলিথিনের এসব ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে এবং পলিথিন নিষিদ্ধের আইন বাস্তবায়নের সরকার বেশ কয়েকটি খাতে পলিথিন/প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে পাট জাতীয় দ্রব্যের ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগকে পলিথিনমুক্ত ঘোষণা করেছে বিভাগীয় প্রশাসন। এই লক্ষ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় পাটচাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন ময়মনসিংহের চাষিরা। চলতি বছরে জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ৪৫ হাজার ৯৯৩ বেল।

ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মাজেদ জানান, ২০১৮/১৯ সালে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ৪ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমেও ৫ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাষিদের পাট বীজ উৎপাদনে বীজতলা তৈরিতে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকে এবং পাটের চাষে আগ্রহী করতে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দিয়ে থাকে।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী এলাকার পাটচাষি লালচান মিয়া জানান, গত মৌসুমে ৭০ শতাংশ জমিতে পাটের আবাদ করেছিলেন। তার খরচ হয়েছিল ৮ হাজার টাকার মতো। খরচ বাদে লাভ হয়েছিল ১৭ হাজার টাকা। ফলে তিনি আগামী মৌসুমেও পাট চাষ করবেন বলে আশা করছেন।

সদরের মাইজবাড়ী এলাকার মুকাইমিনাল ইসলাম জানান, পাটের ভালো দাম পাওয়ায় অধিকাংশ চাষি এখন পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চর সিরতা গ্রামের চাষি আবদুস সামাদ জানান, বর্তমানে ধানের দাম কমে যাওয়ায় ও পাটের দাম আগের থেকে বেশি হওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

ময়মনসিংহ বিভাগকে পলিথিনমুক্ত ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়ে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন অন্দোলন কমিটির ময়মনসিংহ শাখার সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আহাম্মেদ লিটন বলেন, বিভাগীয় প্রশাসনের এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হলে প্রশাসন, পরিবেশবাদিসহ সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সেই সাথে পলিথিন ও প্লাস্টিকমুক্ত ময়মনসিংহ গড়তে হলে এর বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যের ব্যাপক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে।

ধারা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক রঞ্জন বসাক বলেন, পাট পণ্য যেহেতু পরিবেশবান্ধব, তাই পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটপণ্যকে সহজলভ্য করতে হবে।

নান্দাইল সমুর্ত্ত জাহান মহিলা কলেজের শিক্ষক অরবিন্দ পাল জানান, প্রাচীনকাল থেকেই বৃহত্তর ময়মনসিংহ পাট চাষের জন্যে বিখ্যাত ছিলো। যেহেতু ময়মনসিংহ বিভাগকে পলিথিনমুক্ত করা হয়েছে, পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহী করে পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত