ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১৯

প্রিন্ট

ডেঙ্গু নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হচ্ছে

ডেঙ্গু নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গু মশা নিধনে সারা দেশে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হচ্ছে বলে সংসদে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে শহীদুজ্জামান সরকারের সম্পূরক জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার প্রশ্নোত্তরে ডেঙ্গু বিষয়ে পদক্ষেপগুলো ব্যাপকভাবে বর্ণনা করেছেন। তার নির্দেশে ২৫ জুলাই থেকে ইউনিয়ন থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত মশা নিধনে ক্রাশ গ্রোগ্রাম শুরু করি, তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সরকার থেকে কর্মসূচি হাতে নেয়া হচ্ছে।

হাবিব রহমানের সম্পূরক জবাবে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, নিজ নিজ এলাকার এমপিরা উপদেষ্টা এবং মতামত রাখা ও দায়িত্ব পালনের এখতিয়ার রয়েছে। যদি কোন রাস্তায় দায়িত্বে অবহেলা কিংবা দুর্নীতির কারণে নিম্নমানের কাজ হয়ে থাকে তাহলে লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে, রাস্তার সংস্কার কাজ দ্রুত করার জন্য একটা মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। এ কারণে কিছুটা ব্যত্যয় হয়ে থাকতে পারে। আগামীতে অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রুমিন ফারহানার সম্পূরক জবাবে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, নীতি-নির্ধারণীর ক্ষেত্রে এমপিদের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বাদ দেয়া সংক্রান্ত এই প্রশ্নটি কেনো করা হয়। বাইরেও এ ধরণের প্রশ্ন শুনি। এমপিরা উপদেষ্টা থাকলে কাজে স্বচ্ছতা ফিরবে এবং কাজের মান ভালো হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবদান রাখলে শিক্ষার মান ভালো হয়। উপজেলা পর্যায়ে এমপিরা উপদেষ্টা থাকা বাঞ্চনীয়।

হাজী মো. সেলিমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত মানুষের দৈনিক পানির চাহিদার পরিমাণ ২২০ থেকে ২৪৫ কোটি লিটার। তবে, ঢাকা ওয়াসা দৈনিক চাহিদার চেয়ে ১০ কোটি লিটার উদ্ধৃত উৎপাদন করছে অর্থাৎ ২৫৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পানির সিস্টেম লস ২০ শতাংশ। তবে, ঢাকা মেট্টো এলাকায় সিস্টেম লস (ডিএমএ) মাত্র ৫-৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগে ৪০ ভাগ পর্যন্ত ছিল। ডিএমএ পদ্ধতি বর্তমান সরকারের সময়ে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ যা মোট ১৪৪টি ডিএমএ এর মধ্যে ৬২টি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ডিএমএ এর কাজ চলমান রয়েছে; আগামী ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ ডিএমএ এর আওতায় আসবে।

তিনি বলেন, সিস্টেম লস কমানোর জন্য সরকার সমস্ত পানির পাইপ লাইন পরিবর্তন করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সেবা সংস্থাগুরোর মধ্যে সর্ব প্রথম ডিএমএ পদ্ধতি চালু করেছে। চলতি বছরের মধ্যে সকল বস্তিবাসী বৈধ পানি সরবরাহের নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কার্যক্রম নিয়েছে।

ওই এমপির আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৩টি পার্ক ও ৪টি শিশু পার্ক রয়েছে।

হাজী সেলিমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীতে দক্ষিণ সিটির ইস্যু করা রিকশার সংখ্যা ৫২ হাজার ৭১২টি এবং উত্তর সিটির ২৭ হাজার ৩৯৭টি। বর্তমানে চলাচলরত রিকশার কোন পরিসংখ্যান নেই।

এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, এলজিইডির সহায়তায় ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২৬৬ দশমিক ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাসস্থান কাজ গত বছরে শেষ হয়েছে। এছাড়া ওই প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় ১০৪টি বাসস্থান নির্মাণ করেছে।

মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহের অর্জিত কাভারেজ ৮৭ শতাংশ। দেশের শতকরা ৮৭জন মানুষ নিকটবর্তী উৎস হতে নিরাপদ পানি সংগ্রহ করে থাকে। অবশিষ্ট ২ কোটি মানুষ দূরবর্তী উৎস হতে পানি সংগ্রহ করে তাই এখনো নিরাপদ পানি ব্যবহারে কাভারেজে অন্তর্ভুক্তি হয়নি।

মন্ত্রী আরো বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্র মোতাবেক ২০৩০ সালের মধ্যে নিরাপদ পানির কাভারেজ ১০০ শতাংশ (প্রতি ৫০জনের জন্য ১টি উৎস) নিশ্চিত করা হবে।

দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মহানগরীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনয়ন ও যানজট নিরসনে ঢাকা সিটি মেয়রের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি কাজ করছে।

নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, দেশের আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক গত ছয়বছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। আর বাংলাদেশ আর্সেনিক মিটিগেশন ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের অধীন মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক, লবণাক্ততা ও আয়রন প্রবণ এলাকায় বিভিন্ন ধরণের পানির উৎস ও ৩৭টি রূরাল পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কীম নির্মাণ করা হয়।

বেগম রত্না আহমেদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে জমির জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা ও সেচ এলাকা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সকল ওয়ার্ডে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বছরব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালণা করা হয়। এই বছরে শুরুতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কায় মার্চ, ২০১৯ থেকে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত