ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৫৩

প্রিন্ট

নিজ জমিতে স্থাপনা নির্মাণে বাধা

নিজ জমিতে স্থাপনা নির্মাণে বাধা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

এলাকাবাসীকে ক্ষেপিয়ে দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী কুমারপুর গ্রামে বিমান বাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিজ জমিতে স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই জমির চারপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় জমিতে ঢুকতে পারছেন না তিনি। এর নেপথ্যে জেলা পরিষদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা রওশনুল হক তুষার তার বাবার নামে নির্মিত মসজিদের কমিটিকে দিয়ে কলকাঠি নাড়ছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

১৯৭০ সালে সাড়ে ৩২ শতক জমি কেনেন অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা তাসির উদ্দীন আহম্মেদ। স্থানীয়রা তাদের প্রয়োজনে ওই জমি ব্যবহার করতো। ওই জমির পাশে একটি মক্তব ছিল। চার বছর আগে ওই মক্তবটির স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করে স্থানীয়রা। ওই মসজিদের নাম দেয়া হয় আজিজ নগর জামে মসজিদ। সাথেই নির্মাণ করা হয় একটি অজুখানা। যে অজুখানাটি অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা তাসির উদ্দীন আহম্মেদের জমির ওপর নির্মাণ করা হয়।

এছাড়াও মসজিদের বাইরের ছাদের অংশটুকুও পড়ে তার জমিতে। জমির মালিক বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না জানিয়ে অজুখানা নির্মাণ করায় আপত্তি তোলেন তিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয় স্থানীয় মুসল্লিরা। এরই মধ্যে ওই জমিতে স্থাপনা করার জন্য ইট নিয়ে যান ওই কর্মকর্তা। কিন্তু মসজিদ কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর অজুখানা ভেঙে ফেলে এবং ওই জমিতে প্রবেশ করার মুখে দেয়াল নির্মাণ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন করেন ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার নিজের জমিতে যেন প্রবেশ করতে না পারেন সে জন্য জমির চার পাশেই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে স্থানীয়রা। এলাকার মানুষকে এমনভাবে ফুসিয়ে তোলা হয়েছে যেন ওই ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার জমিতে প্রবেশ করতে না পারেন। এর পেছনে ইন্ধন দিচ্ছেন জেলা পরিষদ সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রওশনুল হক তুষার। যা স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি বিষু মোহাম্মদ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিষু মোহাম্মদ জানান, আজিজ নগর জামে মসজিদের জায়গা কম থাকায় অজান্তে অজুখানা ও টয়লেট তাসির উদ্দীন আহম্মেদের জায়গায় স্থাপন করা হয়। পরে তাসির উদ্দীন আহম্মেদ তার জায়গায় মসজিদের স্থাপনা দেখে ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। এছাড়াও ছাদ ও অজুখানা ভেঙে নিতে বলেন। এরপর তা ভেঙে ফেলা হয়।

তিনি আরো বলেন, এই মসজিদ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যার আজিজুল হকের নামে করা হয়েছে। তিনি বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য রওশনুল হক তুষারের বাবা। তিনি এই মসজিদ নির্মাণে সব ধরনের সহায়তা করেছেন। তাই তাকে ও এলাকাবাসীর মতামত ছাড়া ওই জমির সমাধান কেউ দিতে পারবেন না।

বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাসির উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, আমাকে না জানিয়ে মসজিদের স্থাপনা করেছে শুধুমাত্র এ কথা বলতে যাওয়ায় এলাকার মুসল্লিকে আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া আমি তাদের অজুখানা ও ছাদ ভাঙতে বলিনি। আমার স্থাপনা নির্মাণের কথা শুনে তারা আমাকে আমার জমিতে প্রবেশ করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তার জমি দখল করতে একটি চক্র পায়তারা করছে বলে অভিযোগ করেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাসির উদ্দীন আহম্মেদ।

তবে এ বিষয়টি সাথে কোনোভাবে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেছেন জেলা পরিষদ সদস্য রওশনুল হক তুষার। তিনি বলেন, ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কথায় ক্ষিপ্ত হয়েছে স্থানীয় মুসল্লিরা। বিষয়টির সমাধান তারাই দিতে পারবেন বলে নিজের দায় এড়িয়ে যান তিনি।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত