ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:২২

প্রিন্ট

ব্রহ্মপুত্রের প্রাণ ফেরাতে বিশাল কর্মযজ্ঞ

ব্রহ্মপুত্রের প্রাণ ফেরাতে বিশাল কর্মযজ্ঞ
মোঃ মঈন উদ্দিন রায়হান
ময়মনসিংহ

এশিয়া মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘতম নদ ব্রহ্মপুত্রের প্রাণ ফেরাতে শুরু হয়েছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। এককালের খরস্রোতা পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলকারী নদটি বর্তমানে মৃত প্রায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইশতেহার ও তার একান্ত ইচ্ছা-আগ্রহে ব্রহ্মপুত্রের প্রাণ ফেরাতে বিশাল এক প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। শুরু হয়েছে এর খনন কাজ।

ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন জায়গায় বিশাল আকৃতির ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কয়েক ফুট প্রস্থ বিশাল পাইপ লাগিয়ে নদীর পাড় থেকে কিছুটা দূরে ফেলা হচ্ছে বালু। অনবরত চলছে এই খনন কাজ। ব্রহ্মপুত্র পাড়ের সাধারণ মানুষেরা প্রতিদিনই নদ খননের এই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় নদ এলাকাজুড়ে খানিকটা দূরে দূরে বিশাল বিশাল ড্রেজার মেশিন, ট্রলার, ড্রেজিং পাইপসহ খননের নানা সামগ্রী ছড়িয়ে রয়েছে। প্রতিনিয়ত খনন কাজ তদারকি করতে স্থানীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং খনন কাজের শ্রমিকদের আনাগোনা।

জানা যায়, বছরব্যাপী পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযানসমূহ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ব্রহ্মপুত্রে পানি প্রবাহ বৃদ্ধিসহ কৃষি ও মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করার লক্ষে দুই হাজার ৭ শ ৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যায়ে দীর্ঘ ৫ বছর মেয়াদী ব্রহ্মপুত্র নদের ২২৭ কিলেমিটার খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী দিদার এ আলম বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল জামালপুরের কুলকান্দি থেকে গাজীপুরের কাপাশিয়ার টোক পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার নদের মাঝে প্রথম পর্যায়ে ময়মনসিংহ অংশের ৯০ কিলোমিটার খননের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এ ছাড়াও ধরলা, তুলাই এবং পুনর্ভবা নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার এই প্রকল্পে অর্ন্তগত রয়েছে। শুকনো মৌসুমে নদের ৩২০ ফুট প্রশস্ত এবং ১০ ফুট গভীরতা নিশ্চিত করে নদটি খনন করা হবে। ২০২৪ সালের ৩০জুন এই প্রকল্পের কাজ শেষের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের প্রাণ ফেরতেই এই মহা পরিকল্পনা।

তিনি আরো জানান, ব্রহ্মপুত্রের ময়মনসিংহ অংশের ৯০ কিলোমিটার খননের জন্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়োজিত করা হয়েছে। বর্তমানে নদের বিভিন্ন অংশে খননকাজে ১৯টি ড্রেজিং মেশিন চলমান রয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র নদ খনন বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমানের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে এবং তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, ব্রহ্মপুত্র খননের ফলে ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের কৃষি, মৎস ও ব্যবসা-বানিজ্যে সুবিধা বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বাড়বে। এছাড়াও ভারতের সাথে কম খরচে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা গেলে এই ব্রহ্মপুত্র ভবিষ্যতে আর্ন্তজাতিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক লাইফলাইন ব্রহ্মপুত্রের প্রাণ ফেরাতে জেলা নাগরিক আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছে। শেখ হাসিনা উদ্যোগে ইতোমধ্যেই ব্রহ্মপুত্র খনন কাজ শুরুকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এ অঞ্চলের গণমানুষের প্রত্যাশা ব্রহ্মপুত্র খননকাজ যেন সঠিক ও শতভাগ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফ হোসাইন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ব্রহ্মপুত্র খননের ফলে খুব সহজে এবং কম খরচে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা যাবে। মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে পরিবেশ রক্ষাসহ এই নদ থেকে নানা সুফল পাবে ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলার কয়েক কোটি মানুষ।

খনন কাজকে সাধুবাদ জানিয়ে সামাজিক সংগঠন জনউদ্যোগের আহ্বায়ক অ্যাড. নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, প্রথমেই নদের সীমানা চিহ্নিত করতে হবে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খননের উত্তোলিত মাটি দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের দুই পাড়েই ২২৭ কি.মি. প্রসস্থ সড়ক নির্মাণ করতে হবে এবং এই সড়কের পাশে পরিকল্পিত বনায়ন করতে হবে। যা হবে বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম ফুসফুস ও বিশ্বের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থান।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত