ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:৪৫

প্রিন্ট

পাওনা আদায়

গ্রামীণ-রবিকে ছাড় দিচ্ছে সরকার

গ্রামীণ-রবিকে ছাড় দিচ্ছে সরকার
জার্নাল ডেস্ক

গ্রামীণফোন ও রবি’র বকেয়া পাওনা আদায়ে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা থেকে সরে এসে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে অপারেটর দুটি মামলা প্রত্যাহার করে নেবে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া পাওনা আদায়ের বিষয়টির সমাধান হবে।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানানো হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকল প্রকার সিদ্ধান্ত আলোচনার মাধ্যমে নিতে চাই। গ্রামীণফোন এখানে ব্যবসা করুক। আমাদেরকে পাওনা বুঝিয়ে দিলেই হবে। তাহলে আমরা তাদের ব্যবসার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করব। এটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে রাজস্ব হারাব। আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করব এবং গ্রামীণফোন তাদের প্রধান কার্যালয়ে আলোচনা করবে। আগামী ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে এটির সমাধান হবে। তাদের পাওনা সংক্রান্ত মামলা প্রত্যাহার হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কীভাবে করব এ মুহূর্তে বলব না। এখানে অনেক সুদ রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকেও আপত্তি রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে টাকা আদায় করা হবে। তারাও মামলা প্রত্যাহার করবে। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। নো ফারদার আরগুমেন্ট।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ও রবি গত ২২ বছর ধরে নিয়মিতভাবে ভ্যাট. ট্যাক্স ও বিটিআরসির পাওনা পরিশোধ করে আসছিল। এরমধ্যে, বিভিন্নভাবে গ্রামীণের কাছে চার থেকে সাড়ে ৪ হাজার ও রবির কাছে আটশ’ থেকে সাড়ে আটশ’ কোটি টাকার দাবি আছে। এ দুটি অপারেটরের কাছে আবার বিটিআরসির পাওনা সুদসহ আট হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, রাজস্ব বাবদ গ্রামীণের কাছে যে ৪ হাজার কোটি টাকা পাওনা তা এডিআর’র মাধ্যমে নিষ্পত্তির অপেক্ষা আছে। আর বিটিআরসির যে পাওনা, তা আলোচনার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হবে। আমরা মনে করেছি, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসা উচিত।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে দুই অপারেটরের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে যাচ্ছিল। এ অবস্থা চলমান থাকলে আমাদের ক্ষতি হতো, আমরা রাজস্ব হারাতাম। তারা ব্যবসা করবে, আমরা নিজেদের পাওনা বুঝে নেবো। তারা (দুই অপারেটর) যে মামলা করেছে, সে মামলা তারা প্রত্যাহার করে নেবে। অপরদিকে সরকারের তরফ থেকে যে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হবে।

অর্থমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে আমরা যে সিদ্ধান্ত নেবো তা কখনোই দেশের স্বার্থের বিপক্ষে যাবে না।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, গতকাল থেকে দৃশ্যপট বদলে গেছে, বিটিআরসির সঙ্গে দেনা-পাওনার বিরোধ আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে মিটিয়ে নেবো। মোবাইল কোম্পানিগুলো জাতীয় অর্থনীতিতে এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রাখছে। গত ২২ বছরে এ দুটি অপারেটরের সঙ্গে এই পাওনা ছাড়া আর কোনও বিষয় নিয়ে বিরোধ হয়নি। আমরা ব্যবসার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই, তবে জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষিত হতে পারে না। পারস্পরিক আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা বিষয়টি নিশ্চিত করবো।

এনবিআর’র চেয়ারম্যান জানান, গ্রামীণফোন চেয়েছিল আরবিট্রেশনের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা করতে। তবে বিটিআরসির আইনে আরবিট্রেশনের কোনও সুযোগ না থাকায়, তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। আমরা তাদের পরামর্শ দিয়েছি, টেলিনরের সঙ্গে কথা বলে অতিদ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য। তারা আমাদের পরামর্শ গ্রহণ করেছে।

গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি বলেন, ‘আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ যে, আমাদেরকে একত্রিত করে এটির সমাধান খোঁজা হচ্ছে। কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি এখন আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান হবে।’

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি, রবির সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত