ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ২১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৫৪

প্রিন্ট

চাঁদা না দেয়ায় দোকানে তালা দিলেন পুলিশের এসআই

চাঁদা না দেয়ায় দোকানে তালা দিলেন পুলিশের এসআই
প্রতীকী ছবি
পাবনা প্রতিনিধি

দেশজুড়ে যখন একের পর এক চাঁদাবাজি আর মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে সেখানে এবার চাঁদা না দেয়ায় দোকান বন্ধ করে দিলেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ। তার দাবি ৫ লাখ। আর এ চাঁদার টাকা না দিলে দোকান খুলতে পারবেন না অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এ ঘটনা ঘটেছে পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানা এলাকায়।

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম মুন্সী টাইগার ইউসুফের চাঁদা দাবিসহ দোকান বন্ধ করে দেয়ার প্রতিকার চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, পাবনার পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, টাইগার ইউসুফের বাহিনীর সদস্যরা তাকে ফোনে হুমকি দিচ্ছে যে, টাইগারের কিছু হলে তোর লাশ পড়বে। এজন্য থানা থেকে ওসি সাহেব তাকে দোকান খোলার জন্য আহ্বান জানালেও তিনি টাইগারের বাহিনীর ভয়ে এলাকায় যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না।

রফিকুল জানান, আমিনপুর থানা পুলিশের কর্মরত এসআই ইউসুফ এলাকায় টাইগার ইউসুফ নামে পরিচিত। টাইগার ইউসুফের রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। টাইগার ইউসুফ এবং তার বাহিনীর ভয়ে তটস্থ থাকতে হয় এলাকার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে। কখনো মিথ্যা মামলায় আবার কখনো থানায় আটকে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত এসআই টাইগার ইউসুফ এবং তার বাহিনী।

তিনি আরো বলেন, প্রায় ৬ মাস আগে তার কাছে আমিনপুর থানার মুন্সী কামরুলের মাধ্যমে দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এসআই ইউসুফ। সে সময় কামরুল জানিয়েছিল যে, তোমার তো ব্যবসা-বাণিজ্য ভালোই চলছে। তাহলে আমাদের কিছু দাও। মুন্সী তখন জানায়, টাইগারের দুই লাখ এবং আমার ৬০ হাজার টাকা না দিলে ব্যবসায় করতে পারবে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানালে সে যাত্রায় রক্ষা পেলেও সম্প্রতি আবারও পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন আমিনপুর থানা এসআই ইউসুফ ওরফে টাইগার ইউসুফ। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ২ সেপ্টেম্বর দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন। দোকানে থাকা আমার বাবাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেন এসআই ইউসুফ।

জানতে চাইলে আমিনপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. মইনুদ্দিন বলেন, বিষয়টি সহকারী পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন তদন্ত করছেন।

অভিযুক্ত এসআই ইউসুফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার সুনাম নষ্ট করতে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত