ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:০৪

প্রিন্ট

কালীগঞ্জে বিধবার জমি দখল করে দালান নির্মাণ

কালীগঞ্জে বিধবার জমি দখল করে দালান নির্মাণ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের শ্রীলক্ষী সিনেমা হলের পাশে জামিলা ইসলাম নামের এক বিধবার জমি জোরপুর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে এক ভূমি দস্যুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দেওয়ার পর আদালত ১৪৪ ধারা জারি করলেও তা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মান করেছেন ভূমিদস্যু আব্দুর রহমান তোতা।

ভুক্তভোগী জামিলা ইসলামের ছেলে জাহিদ হাসান জানান, শ্রীলক্ষী সিনেমা হলের পাশের ৩৬ নম্বর নিশ্চিতপুর মৌজার ১৮০৫ দাগের ২৬ শতক ৭৫ পয়েন্ট জমি ছিল তার দাদা গোলাম নবি বিশ্বাসের। তিনি মারা গেলে ওয়ারেশ সুত্রে জাহিদের পিতা নাসিরুল ইসলাম নান্নু পান ৩.৩৪ শতক জমি। নাসিরুল ইসলাম বেঁচে থাকাকালীন তার অন্যভাইদের কাছ থেকে পান .৭৫ শতক জমি।

নাসিরুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর ছেলে জাহিদ হাসান তার দুই ফুপুর কাছ থেকে ৩.৩৪ শতক জমি ক্রয় করেন। সবমিলিয়ে তাদের জমি হয় ৭.৪৩ শতক।

২০১২ সালে ভূমিদস্যু আব্দুর রহমান তোতা জাহিদের চাচাদের কাছ থেকে জমি কিনে বাড়ি করেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি জাহিদ ও তার বিধবা মায়ের ১ শতক জমি জোরপুর্বক দখল করেন। এ ঘটনায় জাহিদ বাদী হয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৪৬০।

পরবর্তীতে আদালত চলতি মাসের ১৯ তারিখে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু ভূমিদস্যু আব্দুর রহমান তোতা আইন ভঙ্গ করে সেখানে পাকা ঘর নির্মান করেছেন।

ভুক্তভোগী বিধবা জামিলা ইসলাম বলেন, আব্দুর রহমান তোতা কালো টাকার জোরে আমাদের জমি জোরপুবর্ক দখল করে নিয়েছেন। আমার স্বামী যখন বেঁচে ছিলেন তখন তিনি জমির দখল নেননি। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি এ ঘটনা ঘটাচ্ছেন। তিনি যেখানে বাড়ি করেছেন সেখানেও আমার জমি রয়েছে।

এছাড়াও তিনি যে জমি দখল করেছেন সেখানে আমাদের দোকান ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমার অন্য ওয়ারেশদের কাছ থেকে আব্দুর রহমান তোতা জমি কেনেন। ২০০৪ ও ২০০৬ সালে জমি কিনে সেই সময় তিনি নামখারিজ করেননি। পরবর্তীতে ২০১৭-১৮ সালে ভুল ওয়ারেশ কায়েম দিয়ে নামপত্তন করেছেন। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সেই সাথে আইন ভঙ্গ করে স্থাপনা নির্মাণ করায় তার শাস্তি দাবি করছি।

এ ব্যাপারে আব্দুর রহমান তোতার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি ইউনুস আলী বলেন, ওই জমিতে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। আইন অমান্য করে যদি কেউ স্থাপনা তৈরি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত