ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৩২

প্রিন্ট

প্রকাশ্যে আবরার হত্যার সম্পূর্ণ ভিডিও

প্রকাশ্যে আবরার হত্যার সম্পূর্ণ ভিডিও
জার্নাল ডেস্ক

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার দুটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছিল। ভিডিও দুটি ছিল খন্ড। যেখান থেকে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পূর্ণ ভিডিওর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছিলো শিক্ষার্থীরা। পাওয়া গেল সেই পূর্ণ ভিডিও।

দীর্ঘ সেই ভিডিও কিছুটা ফার্স্ট করে দেখা গেছে কিভাবে আবরারকে হত্যা করার পর নিয়ে যাওয়া হয়। সিড়িতে ফেলানো হয়। একাধিক ছাত্র তার লাশ টানা হেচড়া করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও সেখানে উপস্থিত হয়েছিল। চিকিৎসক ডেকে আনা হয় রাতে।

এর আগের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আবরারকে মারধরের পর কক্ষ থেকে বের করা হয়।

ভিডিও ফুটেজে আরও দেখা যায়, প্রথমে একজনকে বারান্দা দিয়ে কিছুটা দৌড়ে আসে। এরপর তিনি একই পথে ফিরে যান। কিছুক্ষণ পর আবরারকে তিনজন ধরাধরি করে নিয়ে আসেন। তাদের পেছনে একজনকে হেঁটে আসতে দেখা যায়, তার পেছনে আরেকজন হেঁটে আসেন। এর পরপরই আরও পাঁচজনকে ওই বারান্দা দিয়ে হেঁটে আসেন।

এদিকে আবরার হত্যা মামলায় রিমান্ডে থাকা ১০ আসামি গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন ডিবির ঢাকা দক্ষিণের এডিসি রাজিব আল মাসুদ।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা যেটা বলেছে, যে হত্যার মোটিভ টি আসলে হত্যার জন্য ছিল না। মরাপিট করতে করতে এক পর্যয়ে ভিকটিম মারা যায়। যাদেরকে আমরা ধরেছি, তারা মারপিটি অংশ গ্রহণ করেছে, এরকমটা স্বীকার করেছে।

‘এজাহারের নাম থাকলে যে কেউ আসামি হবে। বিষয়টা এমন না। বিষয়টা তদন্ত সাপেক্ষে বের করতে হবে। এর ঘটনার সাথে যারা জড়িত ছিল, প্রাথমিক ভাবে তারা ধরা পড়েছে। আমরা তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি, যাদের নাম পেয়েছি, তাদের নাম নোট করেছি। সে ক্ষেত্রে অমিত শাহ কেনো অন্য কেউ যদি থাকে তাদেরকেও ধরা হবে।’

অন্যদিকে ফাহাদ হত্যার বিচারে ৮ দফা দাবি জানিয়েছে ‍বুয়েট আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো—

১. ক্যাম্পাসে নোংরা ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

২. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ।

৩. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিতভাবে শনাক্তকৃত খুনিদের সকলের ছাত্রত্ব আজীবন বহিষ্কার।

৪. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি।

৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হবার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি তার জবাব সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে দিতে হবে এবং ডিএসডব্লিউ স্যার কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন তার কারণ বিকেল ৫টার তাকে দিতে হবে।

৬. আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতন এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ নভেম্বর, বিকেল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৭. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ নভেম্বর, বিকেল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

৮. মামলা চলাকালীন সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

প্রসঙ্গত, রোববার মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বরকত উল্লাহ ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েক জনকে অভিযুক্ত করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এদিকে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় নিজ বাসার সামনে আবরারের তৃতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সম্পূর্ণ ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন...

আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত