ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৫৬

প্রিন্ট

আশুরার বিলের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে জেড সেতু

আশুরার বিলের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে জেড সেতু
দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুর নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরে থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে বিশাল শালবনের উত্তর পাশ ঘেষেই বিশাল আশুরার বিলের অবস্থান। বিলের আয়তন ২৫১.৭৮ হেক্টর। এই বিলের উপত্তি নিয়ে রয়েছে বিচিত্র কাহিনী।

কথিত আছে এই বিলের চারপাশ থেকে ৮০টি দার বা নালা চর্তুদিকে ছড়িয়ে গেছে বলে এর নাম করণ হয়েছে আশুরার বিল। বিশাল এই বিলের গভীরতা ও কাদার তলানি এবং এর চারপাশ বেষ্টিত শালবন এক সময় নানা কিংবদন্তীর জন্ম দেয়। বিলের মাঝে কতিপয় স্থান- পাতিলদহ, বুড়িদহ, পীরদহ, মুনির আইল,কাজলাদহ, পালাদহ, মুনির থান ইত্যাদি নামে পরিচিত।

এক সময় এ বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এ বিলের বোয়াল এবং পাবদা মাছ খুবই সুস্বাদু। এ ছাড়াও বিলে টেংরা, কই, মাগুর, পুঁটি চিংড়ি, আইড়মাছ, শোল, গজাড়, বাইম ইত্যাদি দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। বর্ষা মৌসুম এলে এ বিলে লাল, সাদা শাপলা ফুল বিলের সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভ্রমন পিপাসু মানুষ আশুরার বিলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়।

ভ্রমন পিপাসুদের আরোও আনন্দ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে আশুরার বিলের ওপর প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের শাল কাঠের আঁকাবাঁকা সেতু। নাম রাখা হয়েছে ‘শেখ ফজিলাতুন্নেছা সেতু’। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৯০০ মিটার। সম্পূর্ণ শাল কাঠে নির্মিত এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। সময় লেগেছে দুই মাসের মতো। এটি পূর্ব-পশ্চিমে নির্মিত। সেতুটির আকার দেওয়া হয়েছে ইংরেজি বর্ণ জেড এর মতো। যা সেতুটির বেশ কয়েটি জায়গায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেতুটির পশ্চিমে খটখটিয়া কৃষ্ণপুর ও পূর্ব দিকে নবাবগঞ্জ। ফলে এই দুই অংশের বাসিন্দারাও সেতুটি ব্যবহার করতে পারবেন। উপজেলা প্রশাসন বলছে, এত বড় কাঠের সেতু উত্তরবঙ্গে নেই।

বোরে মৌসুমে এ বিলে স্থানীয় কৃষকরা বোরো ধান চাষ করে এবং প্রচুর ফলন পায়। আশুরার বিল মস্যজীবি সমবায় সমিতি লি: ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে। বিলটিতে মস্য অধিদপ্তর হতে প্রতি বছর সরকারি অর্থে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়। এ সমিতি নিজ ব্যয়ে বিলটিতে ২০ একরের অভয়াশ্রম স্থাপন করেছে। অভয়াশ্রমটি বিপন্ন প্রজাতির মাছ সংরক্ষন ও প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ন। মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমতি সাপেক্ষে অর্ধেকাংশে প্রতি দুই বছর পর পর রাক্ষুসে প্রজাতির মাছ ধরা হয়। ফলে বাকি অংশে মাছ বড় হওয়া ও প্রজনন করার সুযোগ পায়। বর্তমানে বিলটি ভরাট হওয়ায় মস্যজীবিরা বছরে ৪/৫ মাসের বেশি সময় মাছ ধরার সুযোগ পায়না।

নবাবগঞ্জ অংশের ২৫১ হেক্টর এবং বিরামপুর অংশের ১০৯ হেক্টর নিয়ে মোট ৩৬০ হেক্টর এলাকাজুড়ে এই আশুরার বিল। এখানে বিভিন্ন দেশীয় মাছসহ লাল খলশে, কাকিলাসহ আট প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছ পাওয়া যায়। এই বিলের তিন দিক ঘিরে আছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শালবন। আর এই বনেই আছে অনন্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সীতারকোর্ট বিহার। যা নিয়ে ‘সীতার বনবাস’কিংবদন্তি রয়েছে।

৫১৭.৬১ হেক্টর সংরক্ষিত বনাঞ্চল নিয়ে নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান। ২০০৮ সালে এটি জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। তবে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হলেও বরাদ্দ না দেওয়ায় তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। এই বনে শাল ছাড়াও সেগুন, গামার, কড়ই, জামসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ প্রজাতির গাছগাছড়া রয়েছে।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত